২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে সরকারি অফিস ‘দখল করে’ জামায়াতের কার্যালয়

আমির বলেন, “কোনো সময় সরকারি কাজে প্রয়োজন হলে আমরা ভবনটি ছেড়ে দেব।”

সিরাজগঞ্জে সরকারি অফিস ‘দখল করে’ জামায়াতের কার্যালয়
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2025, 07:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাইন বোর্ড টানিয়ে নেতারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।  

দুই-তিন মাস ধরে উপজেলা সদরে অবস্থিত তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত সরকারি একতলা পাকা ভবনের এই কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

তারা জানান, কার্যালয়টিতে উল্লাপাড়া পৌর জামায়াতে ইসলামীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাইন বোর্ড লাগানো হলেও উপজেলার নেতাকর্মীরাই নিয়মিত সেখানে আসেন। 

এর পাশে উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি সরকারি কার্যালয় রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় নিয়ে কেউ কথা বলতে চাননি।  

উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “ওই ভবনটি অনেক দিন যাবত পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি পরিষ্কার-পরিছন্ন ও সংস্কারের পর সেখানে জামায়াতের ইসলামীর সাইন বোর্ড লাগিয়ে তারা ব্যবহার করছেন। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।” 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, “১৫-২০ বছর যাবত ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। দুই-তিন মাস আগে ভবনের দুটি কক্ষ সংস্কার করে স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বসেন। আশপাশের সরকারি অফিসগুলোর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ভবনটি ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে। কোনো সময় সরকারি কাজে প্রয়োজন হলে আমরা ভবনটি ছেড়ে দেব। পরিত্যক্ত ভবনটি আমাদের নেতাকর্মীরা ব্যবহার করছেন, এটাকে দখল বলা ঠিক হবে না।” 

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। দ্রুত খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, “একসময় উল্লাপাড়ার ওই ভবনে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ছিল। কিন্ত উল্লাপাড়া উপজেলায় তুলা উৎপাদন না থাকায় ওই অফিসের কার্যক্রম অনেক আগ থেকে বন্ধ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ওই ভবনটি এখন উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করার কথা।”