Published : 18 Mar 2026, 04:06 PM
ফেইসবুকে পরিচয় ও সম্পর্কের জেরে দেখা করতে গিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চার তরুণ-কিশোর।
মঙ্গলবার বিকালে গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দী দেয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. হোসাইন (২১), মো. মেহেদী হাসান (২০) এবং ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর। তাদের সবার বাড়ি ভালুকার পাঁচগাও এলাকায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ১৪ বছর বয়সী ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। শৈশবেই তিনি মা ও পরে বাবাকে হারান। সৎ মায়ের সংসারেও তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হন।
প্রায় ছয় মাস আগে ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্রে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সৎ মায়ের কারণে দুই মাস তিনি আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ শুরু করেন।
গত ১৪ মার্চ ফেইসবুকে পরিচয় হওয়া ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে রাত ৯টার দিকে কিশোরী ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে আসেন। পরে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তাকে পাঁচগাও এলাকার একটি নির্জন খালের পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চারজন রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কিশোরীতে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, খবর পেয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চার কিশোর-তরুণকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।