কুমিল্লায় ‘মাদক কারবারি’ ধরতে সীমান্ত পার, ভারতে আটক ২ পুলিশ
তাদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তে ‘মাদক কারবারীদের ধাওয়া দিতে’ গিয়ে ভারতে ঢুকে পড়া দুই বাংলাদেশি পুলিশকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)।
ঘটনার পর ১৩ ঘণ্টা পার হলেও তাদের ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক হোসেন।
আটকরা হলেন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
তাদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়ে ওসি ফারুক হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাতের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ সময় তারা উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশা বাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালান তারা।
পুলিশ দেখে মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করেন পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকে পড়েন।
তখন ভারতীয় মাদক কারবারিরা দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে মারধর করে বিএসএফের হাতে তুলে দেয় বলে জানান ওসি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, “দায়িত্ব পালন করার সময় পুলিশ সদস্যরা ভুলক্রমে ভারত চলে যায়। বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা বিএসএফের সাথে কথা বলছি।
“দুপুরে বিজিবি এবং বিএসএফ কর্মকর্তাদের পতাকা বৈঠকের কথা রয়েছে। এখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএসএফ পুলিশ সদস্যদের ফেরত দেবে বলে আশা করছি।
এছাড়া শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমানও এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে অফিশিয়ালি যোগাযোগ হয়েছে এবং আমরা খুব শিগগিরই আমাদের দুই পুলিশ সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ানকে ফেরত পাব। তারা সুস্থ আছেন, তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।”
বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার অন্তর্গত শশীদল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার পাহাড় ও জঙ্গলের ভূপ্রকৃতির কারণে সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত আনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষা বিজিবির প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখতেও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
