Published : 15 Dec 2022, 01:01 AM
নীলফামারীতে সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা ও চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যার নয় বছরেও বিচার শুরু হয়নি।
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা হয়।
ঘটনার দুইদিন পর ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান নূর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিকালে জেলা শহরে ফেরার সময় টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে তার ওপর হামলা হয়।
ওই হামলায় আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও টুপামারাী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী নিহত হন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
পুলিশের দায়ের করা এই মামলায় মোট ২০৬ আসামির মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। অন্য আসামিদের মধ্যে ১৭৩ জন জামিনে থাকলেও আদালতে গড় হাজির রয়েছেন ৩০ জন।
সে সময়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবুল আকতার। তিনি বর্তমানে কর্মরত আছেন চট্টগ্রামে পিবিআইতে।
মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার রাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি নীলফামারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এখনও সাক্ষী শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে নীলফামারী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অক্ষয় কুমার রায় বলেন, মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় ছয় বছর ধরে আছে। ২০১৭ সালের ৩০মে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বদলি হয়ে এ আদালতে আসে। সে আদালতের একজন বিচারক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় বিচার কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি।
“বর্তমানে সে সমস্যা কেটে গেছে, আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি মামলাটির ধার্য তারিখ রয়েছে।”
তিনি জানান, ওই মামলার ২০৬ জন আসামির মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। জামিনে রয়েছেন ১৭৩ জন এবং গড় হাজির রয়েছে ৩০ জন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালানো হয়। ঘটনার দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান আসাদুজ্জামান নূর।
পরিদর্শন শেষে বিকালে জেলা শহরে ফেরার সময় টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে ধারালো অস্ত্রধারীরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। সে হামলায় আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
প্রধান আসামিসহ জামায়াত-বিএনপির তিন জনের লাশ উদ্ধার
ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলার তিন আসামির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রধান আসামী লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানীর লাশ ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারি সকালে জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নীলফামারী-ডোমার সড়কের গোচামারী সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হয়।
এরপর সে বছরের ২০ জানুয়ারি সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের ধলাগাছ এলাকা থেকে টুপামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিক এবং ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে শিবির কর্মী মহিদুল ইসলামের (২৬) লাশ উদ্ধার হয়। মহিদুলের বাড়ি টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জের সুখধন গ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের (ফার্সি) মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছিল।