Published : 31 Aug 2026, 09:44 PM
সাভারে একটি পরিবহন কোম্পানির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক দল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
লাব্বাইক ট্রান্সপোর্ট (প্রা.) লিমিটেডর রুট সুপারভাইজার মো. রিয়াজ মোর্শেদ সোমবার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগটি করেছেন বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।
ঢাকা জেলা শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাভার পৌর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন মোল্লার নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আটজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাভারের রেডিও কলোনির লাব্বাইক বাসের নির্ধারিত চেকপয়েন্টে জসিম উদ্দিন মোল্লার নেতৃত্বে সাত-আটজন সন্ত্রাসী হঠাৎ অনাধিকার প্রবেশ করেন। তারা সেখানে পরিবহনের নিজস্ব কর্মী, চালক ও কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে হামলাকারীরা কর্মী ও চালকদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
এতে বলা হয়, হামলাকারীরা রেডিও কলোনি চেকপয়েন্ট দিয়ে চলাচলকারী লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে এ রুটে কোনো বাস চলতে দেওয়া হবে না। চালক ও চালকের সহকারীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী রুট সুপারভাইজার মো. রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, “আমরা নিয়ম মেনে পরিবহন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু স্থানীয় শ্রমিকদল নেতা জসিম উদ্দিন মোল্লা ও তার লোকজন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের লোকজনকে মারধর করেছে এবং প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এ ছাড়া ১৭ অগাস্ট একটি প্রাইভেট কার ইচ্ছাকৃতভাবে লাব্বাইক পরিবহনের বাসের সঙ্গে ঘষা লাগায়। পরদিন শ্রমিক নেতা জসিম উদ্দিন পাকিজা এলাকায় আমাদের কয়েকটি বাস আটকে রেখে জোরপূর্বক ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শ্রমিক দল নেতা মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি কোনো পরিবহন থেকে চাঁদা দাবি করিনি।”
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, “পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে অবগত হয়েছি। এর আগেও ওই শ্রমিকনেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।
“চাঁদাবাজের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। চাঁদাবাজি যেই করবে তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সাভার পৌর শ্রমিকদলের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, “জেলা কমিটিসহ আমাদের যে অভিভাবক রয়েছে, তাদের কাছে বিষয়টা উত্থাপন করব। তারা আমাকে যেভাবে দিক-নির্দেশনা দেবেন, আমি সেভাবেই ব্যবস্থা নেব।”