১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

টেকনাফে বসতবাড়িতে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ হামলা, গৃহকর্তাকে ‘অপহরণ’

“বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েও ক্ষান্ত হননি সন্ত্রাসীরা। বাবাকেও মারধর করে রক্তাক্ত করেছে।”

টেকনাফ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Nov 2025, 12:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

কক্সবাজারের টেকনাফে সশস্ত্র ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ একটি দল স্থানীয় এক বাড়িতে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে মালিককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। 

তাকে উদ্ধারে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ।   

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম লেদা গ্রামের নুরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

টেকনাফ ১৬ এপিবিএন এর আওতাধীন লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রাজু জানান, অপহৃত ৫০ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম লেদা গ্রামের শামশু আলমের ছেলে।

ঘেটনার বর্ণনায় নুরুলের বড় ছেলে কামাল হোসেন বলছে, “একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে ঢোকে। তাদের দলে প্রায় ৩০ জন সদস্য ছিল। 

“আব্বু তখন একটি নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা ওই কক্ষের দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে হাতুড়ি ও হাম্বার দিয়ে দেয়াল ভেঙে আব্বুকে তুলে নিয়ে যায়।” 

তিনি বলেন, “বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েও ক্ষান্ত হননি সন্ত্রাসীরা। বাড়ির সদস্যদের ওপর হামলার পাশাপাশি বাবাকেও মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। 

“রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে ভারি অস্ত্র থাকায় এলাকাবাসী কেউ এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। গুলির খোসা দেখে বুঝা যায়, অস্ত্রগুলো কতটা আধুনিক ও ভারি ছিল।”

লেদা গ্রামের দোকানদার নূর মোহাম্মদ বলেন, “সন্ত্রাসীরা শুধু অপহরণই নয়, বাড়ির সদস্যদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায় এবং ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। 

“হামলার সময় গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।”

এপিবিএনের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রাজু বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রায় ৬১ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। 

“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে কয়েকটি ‘অস্ত্রধারী ডাকাত দলের’ গ্ৰুপ রয়েছে। তারাই তাকে অপহরণ করেছে।”

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, “অপহৃত ব্যাক্তিকে উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজে পুলিশের তিনটি টিম কাজ করছে।”