২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পরিবহন দখল নিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Sep 2024, 10:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:31 AM

নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে আটজনকে।

‘সিটি বন্ধন’ নামের একটি পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান ও মহানগর বিএনপির সদস্য মাহবুবুল্লাহ তপনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় রোববার বেলা দেড়টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা থেমে থেমে এই সংঘর্ষ চলে। বিকাল ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যের টহলের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয় বলে নারায়াণগঞ্জ সদর মডেল থানারর ওসি নজরুল ইসলাম জানান।  

এই ঘটনার পর শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি। তবে রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

সিটি বন্ধন পরিবহনের শ্রমিকরা জানান, তাদের অর্ধশত বাস ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করে। আগে একই রুটে ‘বন্ধন ট্রান্সপোর্ট’ নামে বাসগুলো চলাচল করতো। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাস কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে এই পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নেয় দলটির লোকজন। সিটি বন্ধন পরিবহনের মালিক সমিতির সভাপতিও ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ‘শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন। কিন্তু ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। দলের লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় বিএনপির দুটি পক্ষ এই পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে।

এরই জেরে দুপুরে ২০০৪ সালে র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত যুবদলের ক্যাডার মমিনুল্লাহ ডেভিডের ভাই মাহবুবুল্লাহ তপনের অনুসারীরা সিটি বন্ধন বাসের কাউন্টারের সামনে এসে জড়ো হয়। তখন বিএনপির ক্যাডার বলে পরিচিত মো. সেলিম ওরফে দাদা সেলিম ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জাকির খানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করেন। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে টহল দিলে উভয়পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়। তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক  আহত হয়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার হন হত্যাসহ কয়েকটি মামলার আসামি জাকির খান। বিএনপির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাবেক এই ছাত্রদল নেতা এখনও কারাগারে রয়েছেন। এদিকে তপনের ভাগ্নে ও নারায়াণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানাও সংঘর্ষের সময় সেখানে ছিলেন।

সাখাওয়াত বলেন, “বন্ধন ট্রান্সপোর্টের সকল বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিবহন কোম্পানিটি দখল করে তাদের  লোকজন। এখন বাসটির মালিকপক্ষ আবার বাসটি চালাতে চান। আজকে কাউন্টারের সামনে গেলে জাকির খানের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করেন। কারণ তারা এই পরিবহনটি অবৈধভাবে দখল করতে চায়।”

সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জিয়াউর রহমান বলেন, “আমাদের নেতা জাকির খানের বিরুদ্ধে করা একটি হত্যা মামলার শুনানি ছিল আজ। আমরা তার মুক্তির দাবিতে শহরে একটি মিছিল করি। মিছিল শেষে বাস টার্মিনালে একটি দোয়া মাহফিলে যাই। এই সময় পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা করে তপন ও রানার লোকজন। পরে শ্রমিকরাই এই হামলা প্রতিহত করে। এ ঘটনায় আমি বা আমাদের কেউ এতে জড়িত নই।”

ওসি নজরুল বলেছেন, “সিটি বন্ধন বাস কাউন্টারের সামনে মালিক সমিতির দুটি পক্ষ ঝামেলা করতেছিল। এই সংবাদে আমরা সেখানে যাই। দুটি পক্ষকেই আমরা শান্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা শান্ত না হলে পরে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে পরিস্থিতি কন্ট্রোলে নেই।

“আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনী তৎপর রয়েছে। পরিস্থিতি কেউ ঘোলাটে করতে চাইলে সে সুযোগ দেওয়া হবে না।’