১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জুলাই শহীদের পরিবার ও চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, কবর ভাঙচুরের অভিযোগ

শরীয়তপুরের রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবি, তার পক্ষের লোকজনের ওপর আগে হামলা চালানো হয়েছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 09:30 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ জুনায়েত হোসেনের পরিবারের সঙ্গে রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় জুনায়েদের কবরের বেড়া এবং একটি বাড়িতে ভাঙচুর এবং হাতবোমার বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। 

তবে চেয়ারম্যান আবু আলমের দাবি, জুনায়েদের পরিবারের লোকজনই তাদের ওপর আগে হামলা চালিয়েছেন।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ।

স্থানীয়দের বরাতে  পুলিশ জানায়, রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আলমের সঙ্গে জুলাই শহীদ জুনায়েতের বাবা শাহ আলম ফরাজী ও চাচা ইব্রাহিম ফরাজীর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

জুনায়েত নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় চেয়ারম্যান আবু আলম ও তার অনুসারীদের আসামি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর থেকে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়।

জুনায়েতের পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় তার কবরের চারপাশের বেড়া ভেঙে ফেলা হয়। বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। 

এ সময় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে তারা দাবি করেন।

জুনায়েতের বাবা শাহ আলম ফরাজী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে জানতে পারেন, তার বাড়িতে হামলা হয়েছে। এর আগেও তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শাহ আলমের অভিযোগ, চেয়ারম্যান আবু আলম ও আওয়ামী লীগের লোকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আবু আলম বলেন, জুনায়েতের পরিবারের সঙ্গে তাদের জায়গা-জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনায়েত মারা যাওয়ার পর তিনি নিজে ঢাকায় গিয়ে তার লাশ দেশে এনেছেন এবং জানাজায় অংশ নিয়েছেন। হাসপাতালে ডেথ সার্টিফিকেট আনা ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নও তিনি দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, “জুনায়েতের হত্যা মামলায় আমাদের পাঁচ ভাইকে আসামি করা হয়েছে। অথচ আমরা তার পরিবারের ওপর হামলা করিনি।”

তিনি বলেন, জুনায়েতের পরিবারের লোকজনই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, শুক্রবার স্থানীয় চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুজনকে কোপানোর ঘটনাও ঘটে। পরে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জুলাই শহীদের বিপক্ষের লোকজনকে প্রথমে মারধর করা হয়। ঘটনাটি অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঘটে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শহীদ মো. জুনায়েদ হোসেন নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওনিয়া এলাকার শাহ আলম ফরাজীর বড় ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় একটি কম্পিউটারের দোকানে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান জুনায়েদ।