১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নজরুলের সিলেট পরিভ্রমণের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন

১৯২৬ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সিলেটে আসেন। সে সময় তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

নজরুলের সিলেট পরিভ্রমণের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন
সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 May 2026, 09:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:41 PM

একশ বছর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সিলেট এসেছিলেন। তার সিলেট পরিভ্রমণের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়।

‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল: শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান রোববার বিকালে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে হয়।

১৯২৬ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সিলেটে আসেন। সে সময় তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শহরের সুধীরেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদার তখন তার সেবা করেন। ওই পরিবারের এক সদস্যের গান শুনে মুগ্ধ হন নজরুল। পরবর্তীতে তিনি সিংহবাড়িতেও যান।

নজরুলের শতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠানে কবির লেখা গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

নজরুলের শতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠানে কবির লেখা গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

সুধীরেন্দ্র নারায়ণ সিংহ মজুমদারের উত্তরসূরিদের সংগঠন উপেন্দ্র-বীণাপাণি স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান শুরু হয় সমবেত উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে। পরে সিংহ পরিবারের সদস্য ও সমাজসেবী জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং পরিবারের সঙ্গে নজরুলের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার বলেন, নজরুল ১৯২৬ ও ১৯২৮ সালে সিলেট ভ্রমণ করেন। দুবারই তিনি চৌহাট্টা এলাকার ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে যান। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ির উদ্যোগেই তার সিলেট ভ্রমণের শতবর্ষ উপলক্ষে এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

নজরুলের শতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

নজরুলের শতবর্ষ স্মরণ অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

তিনি বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুই মহাতারকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম সিংহবাড়িতে এসেছিলেন। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, সিলেটের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, অসুস্থ অবস্থায় ১৯২৬ সালে সিলেটে অবস্থানকালে সিংহবাড়ির সদস্যদের সেবা ও আন্তরিকতা নজরুলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেই সম্পর্কের স্মারক হিসেবে লীলাবতী মজুমদারের উদ্দেশে লেখা একটি কবিতাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন সিলেটের বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন হিমাংশু বিশ্বাস, শর্মিলা সেন ঊর্মি, আনন্দী সেন, অনিরুদ্ধ সেন। এ ছাড়া দলীয় নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শত বছর আগে নজরুল সিলেটে আসেন। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সিটি করপোরেশন কাজ করবে। শীত মৌসুমে দুই দিনব্যাপী আরও বড় আকারে এই আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ‘সিংহবাড়িতে কবি নজরুল: শতবর্ষ স্মারক’ শিরোনামে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। এতে নজরুলের সিলেট-সংযোগ, জীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে বিভিন্ন লেখকের লেখা স্থান পায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস, সহকারী হাইকমিশনের প্রেস, তথ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষাবিষয়ক দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া, গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আহমেদ নূর।