Published : 15 Aug 2026, 04:09 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে একটি গরুর নাম ‘বাকশাল’ রেখে জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে।
১৫ অগাস্ট উপলক্ষে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন নেওয়া হয়। নিবন্ধন ফি ধরা হয় ১৫ টাকা। আয়োজকদের ভাষ্য, এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং বাকি ১০০ জনের জন্য বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোজের ঘোষণা দিয়ে শুক্রবার রাতে নিজ ফেইসবুক পেইজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাকশাল’।
“এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ থাকবে।”
মধ্যরাতে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাহউদ্দিন আম্মার বলছি। লীগের.. (গালি) আগুন ধরাইতে যে মজা গো...।”
শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ আয়োজন রাকসুর পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে প্রচারণা চালানো হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে এ নিয়ে নানা মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা।
আয়োজনের সমালোচনা করে কৌশিক দাশ কংকন নামের এক শিক্ষার্থী ফেইসবুকে লিখেছেন, “সালাহউদ্দিন আম্মার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে রাকসুর নাম ব্যবহার করে গরু কুরবানি করছে। ছেলে-মেয়েদের টাকা এভাবে নষ্ট করার এখতিয়ার তাকে কে দিল।”
নিশা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “অথচ হলের খাবারের মান আগের মতোই আছে। ইন্টারনেটের বেহাল দশা। আবাসিক সমস্যার নেই কোনো সমাধান। এই হলো আমাদের ৩৫ বছর পর পাওয়া রাকসুর কর্মকাণ্ড।”
সোহান জুয়ার্দার নামের একজন লিখেছেন, “হিংসার রাজনীতি ভালো কিছু বয়ে আনে না। অন্য একদিন বাকশাল কোরবানি করতে পারতে! শত্রুর মৃত্যুর দিনও সমীহ করা উচিত।”
গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “অগাস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আয়োজন সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম রাকসুর ব্যানারে করা হচ্ছে।”
তবে সমালোচনার মধ্যে রাকসুর তহবিল থেকে এ আয়োজন করা হয়নি বলে দাবি করেছেন জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি বলেন, “শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।”
গরুর নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সেজন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে।”