২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাগরে ধরা পড়ল ৩৩ কেজির ‘কালো পোয়া’, দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা আব্দুল গণির ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।

টেকনাফ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Nov 2025, 08:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিনে বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ৩৩ কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ ধরা পড়েছে; যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।

শনিবার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা আবদুল গণির মালিকানাধীন ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে বলে জানিয়েছেন সেন্ট মার্টিনের ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম।

প্রতিবছর নভেম্বর এলেই যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় সেন্ট মার্টিনের জেলে আব্দুল গণির। সাগরে তার জালে আটকা পড়া পোয়া মাছই গণির ভাগ্য পরিবর্তনের উৎস বলে জানান স্থানীয়রা।

জেলে আব্দুল গণি বলেন, “আমার নৌকায় সেন্ট মার্টিনের অদূরে সাগরে জাল ফেলে সকালে পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। স্থানীয় ভাষায় মাছটি ‘কালা পোয়া’ নামে পরিচিত। ৩২ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছটি ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। 

“স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা সাত লাখ টাকায় কিনতে চাইলেও বিক্রি করিনি। মাছটি কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রির জন্য ফ্রিজিং করে কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত সাত বছর ধরে প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বরে আমার জালে পোয়া মাছ পেয়ে আসছি। পোয়া মাছ বিক্রি করে আমি এখন আর্থিকভাবে সচ্ছলতা পেয়েছি। অন্য জেলেরাও এভাবে মাছ পেলে আরও খুশি হতাম।”

স্থানীয় বাসিন্দা নুর আহমদ বলেন, ‘এফবি গণি’ ফিশিং ট্রলারের জালে প্রায় প্রতিবছর পোয়া মাছ ধরা পড়ে। মালিক গণি ১২ লাখ টাকা দামে মাছটি বিক্রি করতে চাচ্ছেন।

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “সেন্ট মার্টিনের জেলে গণি খুব ভাগ্যবান মানুষ। প্রতিবছর কয়েকটি করে পোপা মাছ পেয়ে থাকেন গণি। এবারও মৌসুমের শুরুতে তার জালে ৩২ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি পোয়া মাছ ধরা পড়ল।”

টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “পোয়া মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (Mycteroperca bonaci)। এই মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা আছে। এ ছাড়া এ মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান বলে দামও অনেক বেশি।”

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে আব্দুল গণির জালে ১০টি বড় পোয়া মাছ ধরা পড়ে। ১১৫ কেজি ওজনের পোয়া মাছগুলো আট লাখ টাকায় বিক্রি হয়। তার আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে তার জালে পাওয়া ৬০ কেজি ওজনের দুটি পোয়া মাছ; যা বিক্রি হয়েছিল নয় লাখ টাকা।

২০২০ সালের নভেম্বরে গণির জালে ধরা পড়া ৩০ কেজির একটি পোয়া মাছ বিক্রি হয়েছিল ছয় লাখ টাকায়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৩৪ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ বিক্রি করে পেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা।