১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহ বারে ‘আওয়ামী লীগের দোসরদের’ বাদ দিয়ে ভোট

১৬ আইনজীবীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Apr 2026, 07:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:25 PM

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বারি স্বাক্ষরিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালেচনার সৃষ্টি হয়।

নোটিশে বলা হয়, “ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীদের জানানো যাচ্ছে যে, আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২০২৬-২৭ উপলক্ষে ১৩ এপ্রিল সব প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বুধবার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য করা হল।”

মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় রয়েছেন- সভাপতি পদে বদর উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি পদে দিদারুল ইসলাম, এ কে এম কামাল হোসেন খান, মিজানুর রহমান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক পদে এমদাদুল হক, সহসম্পাদক পদে সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, ছাহবিয়া হক (কানিজ), অডিটর পদে ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন), সদস্য পদে এ কে এম মুনমুন আহমেদ (সেলিম), রফিকুল ইসলাম ফকির, সাবিহা সুলতানা (জেরিন), এম কামরুল হাসান সরকার, ফুয়াদ হাসান (নিউটন), আব্দুল্লাহ আল নাঈম ও তানিয়া আক্তার (রেশমী)।

বদর উদ্দিন আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, এমদাদুল হক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপপ্রচার ও দপ্তর সম্পাদক এবং ফুয়াদ হাসান (নিউটন) ত্রিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

সহসম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম এবং কোনো প্যানেল থেকে প্রার্থী হইনি। আমি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পাইনি। যখন ছাত্রলীগ বা যুবলীগের রাজনীতি করার বয়স ছিল, তখন আমি দেশে ছিলাম না এবং পড়ালেখা করেছি কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে। 

“তবে আমি দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে একবার নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু আমার কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই।”

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার বিষয়ে এমদাদুল হক বলেন, “অগণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রবহির্ভূত একটি বাক্য- নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না নোটিশে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য হওয়ার পর যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। 

“যাদের বাতিল করা হয়েছে, তাদের অনেকে নতুন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেই। আমাদের সঙ্গে সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে পরবর্তীতে করণীয় ঠিক করা হবে।”

জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বারি প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ১৬ জনকে বাদ দেওয়ায় এখন সেখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।  

১২ এপ্রিল জেলা আইনজীবী সমিতির তফসিল ঘোষণা করা হয়। 

এতে বলা হয়, আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩২(১) ধারা মোতাবেক আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২০২৬-২৭ গোপন ব্যালটে তফসিল অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। গঠনতন্ত্রের ৩২(৬) ধারা মোতাবেক ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ১২ জানুয়ারি জারি করা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সব পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর ফলে সমিতির নির্বাচন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সঠিক সময়ে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

তফসিল অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিল, ১৫ এপ্রিল যাচাই-বাছাই, ১৬ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন ধার্য করে দেওয়া হয়। 

তফসিলে তারকাচিহ্ন দিয়ে বলা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠন বা ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।