১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে’

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী নিজেদের ফেইসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিকে ‘ফ্যাসিস্ট ও স্বার্থান্বেষী’ উল্লেখ করে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পোস্ট দেন।

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 01:15 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:16 AM

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক কমিটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক আজিজুল হক বিজ্ঞপ্তির কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী নিজেদের ফেইসবুকে কমিটিকে ‘ফ্যাসিস্ট ও স্বার্থান্বেষী’ উল্লেখ করে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পোস্ট দেন। 

তারা বলেন, ৪ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আট সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের তখন থেকেই দাবি- এটি ‘স্বঘোষিত কমিটি’, যার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এর একদিন বাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থী সোহেল আহমদ (অয়ন) শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকাশ ভূঁইয়ার অনুসারী এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সোহেল সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলাতক উপাচার্য মো. জামাল উদ্দিন ভূঞার নির্দেশে ছাত্রলীগের হিডেন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য হল দখলের পাঁয়তারা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।”

সোহেল আহমদ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ছিলেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সোহেল পদ পেতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য রণজিত সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ ভূঁইয়ার সুপারিশে সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হোসেন বরাবর আবেদন করেন এবং সিভি (জীবনবৃত্তান্ত) জমা দেন। শিক্ষার্থীদের কাছে এর প্রমাণ আছে।

গোপন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন ও গর্হিত কর্মকাণ্ড থেকে সোহেলকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অন্যথায় সোহেলসহ যারা এরূপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে হিডেন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে বা করবে তাদেরও স্বৈরাচারের ন্যায় শেষ পরিণতি বা অবস্থা হবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল আহমদ অয়ন বলেন, “যিনি বিবৃতি দিয়েছেন তিনি গত ৫ তারিখে ক্যাম্পাসে অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেছেন। আমার বিরুদ্ধে এসব বলা হচ্ছে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য। আর আপনারা জানেন গত ১৫ বছরে ক্যাম্পাসে কী অবস্থা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে বাধ্য হয়ে মিছিল-মিটিংয়ে যেতে হয়েছে। আর সিনিয়র হিসেবে তখন আমার সিভি গিয়েছিল।”

আরও পড়ুন:

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ক কমিটিকে 'অবাঞ্ছিত'