Published : 13 Feb 2025, 04:00 PM
ময়মনসিংহে বিআরটিএ-এর গণশুনানিতে বিভিন্ন হয়রানি, অব্যবস্থাপনা, দীর্ঘসূত্রিতার কথা জানিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবা গ্রহীতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় বিআরটিএ কার্যালয়ের আয়োজনে এ শুনানিতে সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধেও নানা বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক গ্রাহক।
তবে দুই ঘণ্টাব্যাপী গণশুনানিতে উঠে আসা অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকা বিআরটিএ এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
শুনানিতে ভুক্তভোগী রাসেল বলেন, লাইসেন্সের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস ঘুরেও মিলছে না প্রতিকার। একই অভিযোগ জানান একাধিক গ্রাহক।
হামিদুর রহমান নামের একজন অভিযোগ করেন, তিন থেকে চার বছর আগে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে এবং ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েও হচ্ছে না লাইসেন্স নবায়ন করতে পারছেন না। এর ফলে তার মত অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অভিযোগ করেন, জেলায় প্রায় বিশ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে।
এ সময় সহকারী পরিচালক এএসএম ওয়াজেদ হোসেন বলেন, বিগত ছয় মাসে মাত্র আটটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা লাইসেন্স নিয়েছে।
একটি শোরুমের কর্মকর্তা মামুন মিয়া শুনানিতে বলেন, “সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে আমার একটি ফাইল এখন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।’
সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সড়ক-মহাসড়কে পর্যাপ্ত সাইড সিগন্যাল ও রোড মার্ক না থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন এক সড়ক পরিবহন শ্রমিক।
এ সময় ময়মনসিংহ বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এএসএম ওয়াজেদ হোসেনের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে বাজে আচরণেরও অভিযোগ করেন একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক আতাউর রহমান জুয়েল। যা সমর্থন করেন একাধিক ভুক্তভোগী।
গণশুনানীতে উপস্থিত সেবাপ্রার্থীদের এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত সময়ে তা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, “আমরা গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে কাজ করছি। তবে ডিজিটালাইজেশনের কারিগরি কাজে এখনো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া আর কোনো নতুন যান বিক্রি করা যাবে না মর্মেও আইন করা হয়েছে।
“এছাড়াও সড়ক প্রশস্তকরণের পর তা যেন অবৈধভাবে দখল হয়ে না যায় সেদিক নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। মোট কথা গ্রাহকসেবা পরিশুদ্ধ করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।
দুর্নীতি করে কেউ ছাড় পাবে না উল্লেখ করে এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক বলেন, “ইতোমধ্যে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তসহ নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুদকের মামলা চলমান আছে।”
এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলছে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি নতুন আইনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের আবেদন করতেও প্রচার চলমান আছে-বলেও জানান এই বিআরটিএ’র কর্মকর্তা।
সহকারী পরিচালক এএসএম ওয়াজেদ হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বলেন, কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু সমস্যা হতে পারে।
তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও সচেতন থাকবেন বলে জানান তিনি।
শুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ’র বিভাগীয় উপপরিচালক সৈয়দ মেজবাদ উদ্দিন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্যাফিক) এস. এম মোহাইমেনুর রশিদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, উপসহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোফাজ্জল হোসেন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন প্রমুখ।