Published : 01 Sep 2026, 06:33 PM
বগুড়া সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে আহত অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।
মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী।
নিহত শামিম হোসেন (৩৫) নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। তার লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের শাশুড়ি ছোবেদা বেগম বলেন, তার মেয়ের জামাইয়ের দাফনে অংশ নিতে শামিম বারপুর এলাকায় গিয়েছিলেন। রাতে তিনি সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন।
ছোবেদা বেগমের অভিযোগ, এরপর শামিমকে রাতভর মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ শামিমকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানান স্বজনেরা।
শামিমের স্বজনেরা ইউপি সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজনকে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য এ বি এম শাফি বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি বাসায় আছেন। রাত ৩টার দিকে দুজন তাকে ফোন করে চোর ধরা পড়ার কথা জানান। তিনি মারধর না করে ওই ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদে রাখতে বলেছিলেন।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে এবং তাকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওসি ইব্রাহিম আলী।
তিনি বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তার লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।