১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে থাকা হাতি যাচ্ছে মালিকের কাছে

ইজিবাইকে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত নামে একটি শিশু গুরুতর আহত হয়, পরে সে মারা যায়।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 01:02 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ফরিদপুরের সদরপুর থানা হেফাজতে থাকা হাতিটিকে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  

মঙ্গলবার বিকালে আদালত এই আদেশ দেয় বলে সদরপুর থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ জানান।  

পুলিশ জানায়, হাতিটির মালিক দুলাল দেওয়ান নামে একজন ব্যবসায়ী। তিনি নওগাঁ জেলার অধিবাসী। তিনি সার্কাসের ব্যবসা করেন না, তবে সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দেন।

২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তুলছিলেন মাহুত বকুল মিয়া (২৪)। এ সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ইজিবাইকে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত নামে একটি শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে পিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

বকুল মিয়া জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিস উদ্দিনের ছেলে। তিনি এখন কারাগারে আছেন। 

পুলিশ নিজেদের হেফাজতে থাকা হাতিটির বিষয়ে করণীয় জানতে আদালতের দারস্থ হয়। আদালত হাতিটিকে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।     

এই সাত দিন হাতিটিকে সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামে আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো, সকালে হাতিকে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করাসহ ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছে। 

শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। 

সদরপুর থানার ওসি আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, “বিকালে আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছি। আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।” 

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেলা পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মীয়াজি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, বন্যপ্রাণীটির খাদ্যের ঘাটতি যেন না ঘটে। আদালত যেহেতু সিদ্ধান্ত দিয়েছে, আমরা তার মালিকের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।”