Published : 02 Sep 2026, 02:35 PM
গাজীপুর নগরে মাদক নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মাকসুদ আলম জানিয়েছেন।
নিহত ৪০ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর থানার টেপির বাড়ি এলাকার নজরুল ইসলাম ও মালতি বেগমের ছেলে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি মাকসুদ আলম বলেন, গোপালপুর, মরকুন ও পাগাড় এলাকায় মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে নুরুলের বিরোধ চলছিল। এর জেরে মরকুন ও পাগাড় এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারি এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জন নুরুলকে বাসা থেকে ডেকে গোপালপুর সোসাইটি মাঠে নিয়ে যান।
“পরে সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে নুরুলকে তার বাসার পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হচ্ছিল। বাসায় পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়।”
ওসি বলেন, তিনি ও এসআই দেলোয়ার ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে অটোরিকশার চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
ওসি মাকসুদ আলম বলছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা এবং আহত নুরুলকে হত্যার পর বাসার সামনে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টার বিষয়গুলোও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার আসল কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
গাজীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার খালিদ মো. আরাফাত বলেন, “নুরুলের পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।”