Published : 29 Sep 2024, 09:12 PM
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর দফায় দফায় হামলার ঘটনায় সাবেক দুই উপাচার্য, সাবেক প্রক্টর ও একজন ডিনসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে আশুলিয়া থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান।
তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক কামাল হোসেন।
মামলায় সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির, সাবেক প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূইয়া, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ ও অধ্যাপক ইসরাফিল আহমেদ।
কর্মকর্তাদের মধ্যে রাজিব চক্রবর্তী, নাহিদুর রহমান খান, সুদীপ্ত শাহীন এবং ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতারুজ্জামান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন ছাড়াও অজ্ঞাত এক থেকে দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৫ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বাদীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হন।
এ সময় উপাচার্য, ডিন, প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি না শুনে উল্টো তাদের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশে শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতাকর্মী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়।
মামলায় আরও বলা হয়, আটকেপড়া শিক্ষার্থীদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ১৫ জন এতে মারাত্মকভাবে জখম ও আহত হয়। হামলাকালে আসামিদের কাছে রামদা, পেট্রলবোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
মামলার বাদী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের উপর অতর্কিত হামলার বিচার চাইতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসনের মদদে ছাত্রলীগ ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পুলিশ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কেউ মামলা করেনি। আমিসহ আমার সহযোদ্ধাদের উপর হামলার ঘটনায় সেজন্য মামলা দায়ের করেছি। আশা করি, আসামিদের পুলিশ দ্রুতই গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করবে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় পুলিশ কোনো সহযোগিতা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে তারাও কোনো আইনি সহযোগিতা চাইলে সেটিও বিবেচনা করবে।”