১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শেরপুরে ১০ বছরের জমানো টাকা জর্দার কৌটায়, খুলে দেখলেন টুকরা টুকরা

নষ্ট হওয়া টাকার বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলছে প্রশাসন।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 04:56 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১০ বছর ধরে জমানো টাকা জর্দার কৌটায় রেখেছিলেন এক বিধবা।

সোমবার কৌটাটি খুলে টাকা বের করতে গিয়ে দেখেন, ভেতরের সব টাকা টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

বিধবা মনোয়ারা বেগম পৌর শহরের পুরাতন জেলখানা রোড সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিন মাস আগে তার স্বামী জিয়া উদ্দিন মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে সংকট নেমে আসে। এর মধ্যে জমানো টাকাও হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মনোয়ারা ভোগাই নদী থেকে বালু ও পাথর তুলে বিক্রি করতেন। তার স্বামী জিয়া উদ্দিন ছিলেন মিষ্টি তৈরির কারিগর। দুজনের আয়েই চলত তাদের সংসার।

সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি দুই মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তারা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রায় ১০ বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাতেন মনোয়ারা ও তার স্বামী।

খুচরা টাকা জমিয়ে পরে এক হাজার টাকার নোট করতেন। এভাবে তাদের সঞ্চয় একসময় দুই লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

প্রায় আট মাস আগে সেই টাকা জর্দার কৌটায় রেখে দেন মনোয়ারা। সম্প্রতি টাকার দরকার হলে কৌটাটি বের করেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবেই কৌটার মুখ খুলছিল না। পরে কৌটার মুখ কেটে টাকা বের করেন। তখনই দেখতে পান, টাকাগুলো টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

মনোয়ারা বলেন, “এই টাকাডা আছিল আমার শেষ সম্বল। স্বামী নাই, কামকাজও নাই। মেয়েগো বিয়া দিছি অনেক কষ্টে। ১০ বছর ধরে একটু একটু কইরা টাকা জমাইছি। ভাবছিলাম, বিপদের সময় এই টাকাডা কাজে লাগামু। অহন সব শেষ হইয়া গেল।”

তিনি বলেন, “নদী থাইকা আগে বালু-পাথর তুইলা বিক্রি কইরা সংসার চালাইতাম। অহন নদীতে পাথরও নাই। স্বামীও নাই। শেষ সম্বলটাও নষ্ট হইয়া গেল।”

প্রতিবেশী আব্দুস সামাদ বলেন, কৌটার ভেতরে নোটগুলো পোকায় কেটে বা পচে টুকরা টুকরা হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় তার সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, মনোয়ারার বিষয়ে তিনি তথ্য পেয়েছেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে বলা হয়েছে, মনোয়ারার জন্য কিছু করা যায় কি-না তা দেখতে।