১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাত দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সমস্যা সমাধান হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

“রোগীরাও বলছেন এখন চিকিৎসার মান ও পরিবেশ উন্নত হয়েয়ছে। খাবারের মানও ভালো হয়েছে।”

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 04:50 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সব সমস্যা আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া চলতি মাসের শেষে দেশব্যাপী আবারও হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

শুক্রবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর মাসের শেষে দেশব্যাপী আবারও হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “হাম দমনে আমরা তিন মাসের মধ্যে আবারও টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছি। 

“সরকারের উদ্যোগে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙামাটি ও বান্দরবান ছাড়া দেশের সব জেলায় হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।”

সিলেটের হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫টির ওপরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। সব জায়গায় চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি ছিল।

“রোগীরাও বলছেন এখন চিকিৎসার মান ও পরিবেশ উন্নত হয়েয়ছে। খাবারের মানও ভালো হয়েছে। এখানের (ওসমানী) কি অবস্থা আমি জানি না, যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে ৬ মাসের মধ্যে সমাধান হবে।”

ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মত উপস্থিত না হওয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সময়মত ডাক্তারদের আসা-যাওয়ায় সময়ানুবর্তিতা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।" 

এ সময় সিলেটের নির্মাণাধীন ও অনুমোদিত সরকারি হাসপাতালগুলোও শিগগিরই চালুর আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যখাতে পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “গত ৬ মাসে দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বেড়েছে৷ দেশের প্রত্যেকটা হাসপাতালে দালাল মুক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এটা দুর্ভাগ্যজনক সত্য যে, একটা শ্রেণী আমাদের রোগীদেরকে ভুল কথা বলে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যায়। 

“এই দালালকে ধরার জন্য আমাদের র‌্যাব, ডিজিএফআই একযোগে কাজ করছে। বহু হাসপাতালে হানা দিয়েছে, তাদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” 

অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জেলাগুলোতে ডিসি ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে এবং ক্লিনিক সিলগালা করা হচ্ছে। 

“যেখানে অবৈধ চিকিৎসক ও ভুয়া সার্টিফিকেটধারী টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশন করা হয়, সেগুলো আমরা সিলগালা করছি। আমি নিজে তালিকা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছি। একটু সময় তো আমাদের দেবেন, ছয়টা মাস।”

দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন ডাক্তার বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমিত জনবল নিয়েই স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-রাত বিরামহীনভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।”

সকালে ওসমানী হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।