Published : 10 Jan 2026, 08:59 PM
পাবনা মানসিক হাসপাতালে দীর্ঘ ১৭ বছর কাটিয়ে অবশেষে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন নাইমা চৌধুরী নামে রোগী।
পরিবারের অবহেলার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৫ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে থাকা মোবাইল নম্বর ও ঠিকানায় কোঁজ নিয়েও কাউকে পায়নি। শেষ পর্যন্ত পরিবার ও স্বজনদের ছাড়াই তাকে দাফন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে নাইমা চৌধুরীকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বজনরা। ভর্তির সময় প্রাণবন্ত ও সুন্দরী এই তরুণী সিজোফ্রোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। শুরুর দিকে পরিবার বা স্বজনরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও পরে আর তাদের দেখা মেলেনি। এক দশকেরও বেশি সময় পরিবারের কেউ তার কোনো খোঁজ নেয়নি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নাইমার শারীরিক অবস্থা এক সময় স্থিতিশীল হলেও পরিবারের অনাগ্রহের কারণে তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। দীর্ঘদিন হাসপাতালে বন্দির মত জীবন কাটানোয় একসময় মানসিক অবসাদ ও শারীরিক জটিলতা তাকে গ্রাস করে। গায়ের উজ্জ্বল রং ফিকে হয়ে যায়, কমতে থাকে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা। শেষ কয়েক বছর তিনি খাবার খেতে চাইতেন না ঠিকমত। নার্সরা জোর করে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম মোরশেদ বলেন, “নাইমার মৃত্যুর পর তার ফাইলে থাকা বড় ভাইয়ের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ নিয়েও হদিস মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে অনেক আগেই এলাকা ছেড়েছেন তারা।”
পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক শাফকাত ওয়াহিদ বলেন, পুলিশের মাধ্যমে স্বজনদের খোঁজা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে তাকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে।
তিনি বলেন, “হাসপাতালে নাইমার মত আরও অন্তত ছয়জন রোগী আছেন, যাদের পরিবারের কোনো খোঁজ নেই। তার মধ্যে ৬৫ বছর বয়সী সাইদ হোসেন আজও শিশুর মত ডুকরে কাঁদেন বাড়ি যাওয়ার জন্য। তার বাড়ির লোকজনেরও কোনো খোঁজ আমরা পাইনি। একইভাবে শিপ্রা রানী, গোলজার বিবি ও শাহানারা আক্তাররা হাসপাতালে এসেছিলেন যৌবনে অসুস্থ হয়ে অভিভাবকদের হাত ধরে, এখন তারা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন।”
তিনি খুবই আক্ষেপের সুরে বলেন, “মানসিক রোগীকে ‘পাগল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এই প্রবণতা নাইমার মত শত শত মানুষের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।”