Published : 02 Sep 2025, 09:53 PM
বগুড়ার সোনাতলা থেকে সারিয়াকান্দী হয়ে ভাণ্ডারবাড়ী পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, বাঁধ সংস্কারে বার বার প্রস্তাব পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় থেকে ফেরত আসছে।
অথচ, বাঁধ ভেঙে পশ্চিম দিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় প্রতি বর্ষায় আতঙ্কে থাকেন পশ্চিমপাড়ের মানুষজন।
ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ষাটের দশকে নির্মাণ হওয়ার পর বহুবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা, ভিটেমাটি, জমিহারা হয়েছে।
পাউবো জানায়, ২০১৯ সালে বাঁধকে ভাঙনমুক্ত করার জন্য প্রথমে ৮২৪ কোটি টাকার প্রকল্প কারিগরি প্রতিবেদন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সেটা ফেরত পাঠিয়ে ২০২১ সালে ‘স্টাডি রিপোর্ট’ পাঠাতে বলে। সেখানে ধুনটের চুনিয়াপাড়ায় একটি স্লুইস গেইট নির্মাণ কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই গেইট বাদ দেওয়া হয়েছে।
এখন যেহেতু জিনিসপত্রের দাম বেশি, তাই সোনাতলা থেকে ধুনট পর্যন্ত ১৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। সেখান শহড়াবাড়ী এবং শিমুলবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজেরও পরিবর্তন করা হবে বলে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে।
এতে সারিয়াকান্দীর রহদহ থেকে দড়িপাড়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, ধুনটের কৈয়াগাড়ী, বড়ইতলী, পুকুরিয়া, ভাণ্ডারবাড়ী মেরামত, সোনাতলার পাকুল্লা, তিতপরল মেরামতের কাজও ধরা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রকল্প এখনও পাশ হয়ে আসেনি।
সারিয়াকান্দী উপজেলার বোহাইল গ্রামের সালেক উদ্দিন বলেন, ষাটের দশকে বাঁধ নির্মাণের পর এ পর্যন্ত ৫০ বার যমুনার ভাঙনে আট কিলোমিটার পশ্চিমে এসেছে। এখনকার লোকজন কেউ ধুনট, কেউ শেরপুর, কেউ নন্দীগ্রাম, কেউ শেরপুর উপজেলায় আশ্রয় নিয়েছে।
“যমুনার পূর্বপাড়ে কিছু জমিতে চর জাগলেও সেখানে শুধুই বালু। কিছু লোকজন সেখানে আবারও আশ্রয় নিয়েছে। স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না করলে যমুনা পলিমাটি এবং বসতবাড়ি গ্রাস করে ফেলবে।”
ধুনটের বৈশাখী গ্রামের ভুলু প্রামাণিক বলেন, “বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে এখন বৈশাখী গ্রাম যমুনা গর্ভে। ছয় কিলোমিটার দূরে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছি। পাউবো বড় প্রকল্প না নেওয়ায় প্রতি বছরই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। জরুরি ভিত্তিতে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ না করলে এই বাঁধ টিকবে না।”
ধুনটের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ফিরোজ হামিদ বলেন, “যখন বাঁধ নির্মাণ হয় তখন মানস নদীর মুখে বাঁধের উপর স্লুইস গেইট ছিল। বর্ষাকালে সেই গেইট খুলে দেওয়া হতো। ওই পানিতে মানস, ইছামতী, বাঙ্গালী নদীসহ খাল-বিল ভরে যেত। পানির সঙ্গে মাছ, পলি মাটি আসত এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে পানির চাপ কম পড়তো। বাঁধও সহজে ভাঙত না। এই স্লুইট গেইট খুবই জরুরি।”
পাউবো বগুড়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবির বলেন, এরই মধ্যেই সোনাতলা, সারিয়াকান্দী উপজেলা থেকে ধুনট উপজেলা পর্যন্ত একটি প্রকল্প আবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের বিষয় উপরের মহলের। প্রকল্প পাশ হলেই কাজ শুরু করা হবে। ওই প্রকল্পের ধুনটের শহড়াবাড়ী ও শিমুলবাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ কংক্রিট স্পারও মেরামত করা হবে।