১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jun 2026, 07:55 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:25 PM

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 

বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। 

এ সময় তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিক কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান। তাদের মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ১৫-২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। 

এ সময় তিনি বলেন, “কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয় তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে, অনিয়ম চলবে না।”

প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। 

এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।” 

এ সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন। 

প্রতিমন্ত্রী এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে- সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী হাকিমকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার লক্ষ্য ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব, জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন, যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় অধ্যাপক এস এম রোকনুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।