১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে দুই ছাত্রকে মারধরের পর গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবার গাছা থানায় আলাদা মামলা করেছেন।

গাজীপুরে দুই ছাত্রকে মারধরের পর গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Sep 2026, 09:13 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার একটি মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের পর গরম খুন্তি দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবার গাছা থানায় আলাদা মামলা করেছেন বলে গাজীপুর মহানগর পুলিশের গাছার থানার ওসি গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন শনিবার।

এর আগে বুধবার নগরের পশ্চিম ঝাঝড়ের (সাক্রাউরী) এলাকায় অবস্থিত আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদ্রাসায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে শোয়াইব হোসেন (২৬), ত্রিশাল উপজেলার বরমা গ্রামের মো. ওয়াদুদের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহিন (১৯)।

শোয়াইব হোসেন আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুর মাদ্রাসার পরিচালক এবং হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের বয়স ১৩ বছর। তাদের একজন কিশোরগঞ্জ এবং অন্যজন শেরপুর জেলার বাসিন্দা। 

মামলা থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা থেকে এক কিশোর বাসায় যায়। এ সময় বাবা খেয়াল করেন, ছেলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না। কারণ জিজ্ঞেস করলে ছেলে জানান, তার নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে। পরদিন নিতম্বে ফোঁড়ায় ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে ছেলেটি বাধা দেয়।

এক পর্যায় পরিবারের লোকজন জোর করে ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে দেখেন, ছেলের নিতম্বে আগুনে পোড়ার জখম। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, আগের দিন বিকালে মাদ্রাসার মাঠে খেলাধুলা করার সময় এক ছাত্রের পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়।

পরে তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন মাদ্রাসার পরিচালক শোয়াইব। মারধরের এক পর্যায়ে লোহার খুন্তি গরম করে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

একই কথা জানিয়েছেন অপর ছাত্রটিও। ছেলেটির বাবা বলেন, একই দিন বিকালে মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলার এক পর্যায়ে পায়জামা খোলাকে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তার হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পোশাক খুলে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি মারধর ও লোহার খুন্তি গরম করে তলপেটে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

ছেলেটির বাবা বলেন, “শুক্রবার রাতে আমি সন্তানকে দেখতে মাদ্রাসা যাই কিন্তু শিক্ষকরা জানান, তাকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার ছেলেকে গুরুতর অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পাই।”

গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনের করা মামলায় শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অপর ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।