১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অনুমোদন ছাড়াই প্যারাসেইলিং, পর্যটকের মৃত্যুর পর বললেন ডিসি

প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে, ফলে এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

অনুমোদন ছাড়াই প্যারাসেইলিং, পর্যটকের মৃত্যুর পর বললেন ডিসি
ফাইল ছবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 09:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে এক পর্যটক নিহত হওয়ার পর প্রশাসন দাবি করেছে, সৈকতে পরিচালিত গোটা প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের কোনো অনুমোদন নেই।

শনিবার দুপুরে দরিয়ানগর সৈকতে দুর্ঘটনায় নিহত হন খুলনার বাসিন্দা শৌভিক রায়। তিনি নয় সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “প্যারাসেইলিংয়ের কোনো অনুমোদন আমরা জেলা প্রশাসন থেকে দেইনি। আমরা অনেকবারই এগুলো বন্ধ করেছি। পর্যটনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচ কর্মীরা গত সোমবারও ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।

“কারণ, বর্ষাকালে সাধারণত সমুদ্র উত্তাল থাকে, আবহাওয়া খারাপ থাকে। খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়। আমরা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপরও আমাদের অগোচরে যে প্রতিষ্ঠান আজকে পর্যটক তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “পর্যটকরা কক্সবাজারে আনন্দ করতে আসেন। এখানে যেন কোনো দুঃখজনক বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, কোনো পর্যটকের প্রাণহানি না হয়, সেটিই আমরা চাই। এজন্য অবশ্যই শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম চলে। দুপুরে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায় তাতে চড়েছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি আকাশ থেকে সমুদ্রে পড়ে যান। তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অনুমোদনহীন কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রশ্ন

প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে। পর্যটক শৌভিকের মৃত্যুর পর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের নিরাপত্তা, সরঞ্জামের সক্ষমতা এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সভাপতি আকতার কামাল প্রশ্ন তোলে বলেন, “প্রশাসনের অভিযানের পরও কীভাবে অনুমোদন ছাড়াই পর্যটকদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং পরিচালিত হচ্ছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই কীভাবে এমন বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল? সেখানে প্রশাসনের কেউ জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হোক।”

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী করিম উল্লাহ কলিম বলেন, “মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অন্তত সাতটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগের মধ্যেও প্যারাসেইলিং কার্যক্রম চলছিল। আজকে যে প্রতিষ্ঠানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আগেও দুর্ঘটনার নজির আছে, তাহলে কিভাবে পুনরায় চালু হলো সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।”

এদিকে দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং নানা অভিযোগের পরও কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে জানতে সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী ফরিদ আহমদকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

আরও পড়ুন:

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু