Published : 23 Jul 2026, 05:05 PM
গোপালগঞ্জের একটি আদালতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট ছোড়ার ঘটনায় বিচারকের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার গোপালগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে বিচার চলার সময় আদালতের পেছনের বেঞ্চে কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী কথা বলছিলেন। এতে আদালতের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছিল।
এ সময় বিচারক মো. সুজন মিয়া কয়েকবার সবাইকে চুপ থাকতে বলেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে দেন। সেটি গিয়ে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় লাগে।
পরে আহত সাবিহা সুলতানাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন আইনজীবী হাবিবুর রহমান, মিলন শরীফ, সোহাগ সমাজদার ও রোকেয়া আক্তার।
রোকেয়া আক্তার বলেন, “একজন বিচারক যদি তার মেজাজটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে তিনি কীভাবে সুবিচার দেবেন। তার কাছ থেকে আমরা সুবিচার আশা করতে পারি না। আমরা তার আদালতে কীভাবে নিরাপদ থাকতে পারি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “এটি প্রথম ঘটনা নয়। তিনি অনেক সময় আইনজীবীদের সঙ্গে মেজাজ দেখান। এর আগেও এক মোহরারের গায়েও পেপার ওয়েট ছুড়ে মারেন।”
মিলন শরীফ বলেন, “আহত আইনজীবীর কাছে বিচারককে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। আদালতে পেপারওয়েট ছোড়া গুরুতর অপরাধ। তার গোপালগঞ্জে থাকার অধিকার নেই।”
হাবিবুর রহমান বলেন, “আদালত চলাকালে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মো. সুজন মিয়ার আদালত বর্জন করলাম।”
সমাবেশে বক্তারা ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিচারকের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার মনে হয় না, বিচারক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করেছেন। তবে যা ঘটেছে, তাতে আইনজীবীরা আহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। বিচারপ্রার্থীরাও বিষয়টি ভালোভাবে নেননি।”
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী, সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা তার পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছি।”
এম এ আলম সেলিম আরও বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে আইনজীবী ও আহত শিক্ষানবিশের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। আহত আইনজীবীকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং তার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বুধবার বিচারক মো. সুজন মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
আরও পড়ুন: