Published : 22 Aug 2026, 10:49 PM
খাগড়াছড়িতে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ ও সড়ক। সেইসঙ্গে বেড়েছে পাহাড়ি নদী ও ছড়ার পানি। প্লাবিত হয়েছে বিস্তৃত নিচু এলাকা।
শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে দীঘিনালা উপজেলার সুধীর মেম্বার পাড়ায় বোয়ালখালীতে এক খামারির দেড় হাজার মুরগি ভেসে গেছে। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ইয়াসমিন আক্তারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানজিল পারভেজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ ছড়ার পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইয়াসিন আক্তারের মুরগীর খামার। এতে প্রায় এক হাজার পাঁচশ সোনালী মুরগী মারা গেছে। সতেরো বছর ধরে খামার করা ইয়াসিন আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি।
শনিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারে গেলে ইয়াসমিন বলেন, “আমরা তো ঘুমাই গেছি, বলতেও পারি না। যখন উঠছি দেখতেছি খামারে ঘরও পানি ঢুকছে, পাশের খামারে দৌড় দিছি ওইখানেও পানি ঢুকছে। দুটা মুরগীর সেডে ১৫০০ মুরগি ছিল।
“আমার সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকার মত ক্ষতি হবে। আমার তো ঋণ করে মুরগীর খামার করেছি। সব মুরগী মারা গেছে, কিস্তিওয়ালা তো আর মানবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে সাহায্য করলে তো আমি একটু দাঁড়াতে পারব।”
খামারের পাশ দিয়ে বোয়ালখালী ছড়া বয়ে গেছে; গত ১৭ বছর ধরে সেখানে মুরগীর খামার করছেন ইয়াসমিন কিন্তু কখনো পানি ওঠোনি বলে জানান।
তিনি বলেন, “আগে উঠানে পানি উঠলে পরে নেমে যেত। কালকে রাত আড়াইটার দিকে উঠে দেখছি পানি ছড়াতে ছিল। কিন্তু ভোর ৪টার দিকে উঠে দেখি খামারের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। এতো ক্ষতি হয়ে গেলে স্বপ্নেও ভাবিনি।”
ইয়াসমিন ভাই ওসমান গণি বলেন, তারা অনেক কষ্টে খামারটা গড়ে তুলেছেন। দেড় হাজার মুরগী ছিল। প্রতিটি মুরগীর ওজন ৫০০ গ্রাম হয়েছে। আর কিছুদিন পর বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু গত রাতে বৃষ্টিতে সব মুরগী মারা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, “আমরা কখনো বোয়ালখালী ছড়ায় এত পানি দেখিনি। এটা বেশ দীর্ঘ ছড়া তৈদুছড়া, বিষ্ণু কার্বারী, জামতলী, মায়াফাপাড়া হয়ে এটি মাইনী নদীতে পড়েছে।
রাতে পাহাড়ে এত ভারি বর্ষণ হয়েছে যে, ছড়ার পানি বেড়ে আশপাশের এলাকায় ঢুকে গেছে। জামতলী-বোয়ালখালী সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ছড়ার আশপাশের ঘর-বাড়ি, খামার সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউএনও তানজিল পারভেজ বলেন, “খামারি ইয়াসমিন আক্তারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। জেলা প্রশাসক এর মধ্যে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত খামারির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথভাবে তাকে সহযোগিতা করব।”