Published : 02 Aug 2026, 01:41 PM
পরপর দুই দফায় বন্যার কবলে পড়ায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৩০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু সেসব চাল ভাগ্যে জোটেনি বন্যার্তদের।
অভিযোগ উঠেছে সেসব চাল বন্যামুক্ত দুই ইউনিয়নকে বরাদ্দ দিয়ে উত্তোলন করে গুদামজাত করে রাখা হয়েছে।
বন্যা কবলিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম খোদাদাদ হোসেনের অবহেলায় ও খামখেয়ালীপনায় এবার বন্যার্তরা ত্রাণের চাল পায়নি। উত্তোলনকৃত চাল কোথায় এবং কিভাবে আছে তারা জানেন না।
উপজেলা ত্রাণ শাখার হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছর জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসে দুই দফা বন্যায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ২০টি ওয়ার্ডের ২ হাজার ৬৪০ জন ক্ষতিগ্রস্থ হয়। একই সময় নদী ভাঙনের শিকার হন আরও শতাধিক মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্থ ৩ হাজার মানুষের বিপরীতে গত ২৯ জুন ৩০ টন জিআর চাল এবং ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন। সেগুলো ৩০ জুন উত্তোলন করা হয়।
তবে বন্যা কবলিত রায়গঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ বলেন, “বন্যায় আমার ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফান্দের চর অন্যতম। ওই সময় বার বার যোগাযোগ করেও বন্যার্তদের জন্য কিছু পাইনি। শুনেছি চাল বরাদ্দ হয়েছে। তবে আমরা এখনো পাইনি।”
জানা গেছে, বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম খোদাদাদ হোসেনের নির্দেশে বন্যা কবলিত নয় এমন দুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন দুটি হলো সন্তোষপুর ও রামখানা।
রামখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, “আমার ইউনিয়ন কখনো বন্যাকবলিত হয় না। তবে ইউএনওর নির্দেশে বন্যাকবলিতদের বরাদ্দের চাল আমার নামে ১৫ টন এবং সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ফিরোজ কবিরের নামে ১৫ টন চাল উত্তোলন করে গুদামেই রাখা হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, “চাহিবামাত্র সমুদয় চাল আমরা ফেরত দিব।”
এদিকে ইউএনওর খামখেয়ালির কারণে টিসিবির চাল ফেরত যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ.খ.ম ওয়াজিদুল কবীর রাশেদ। তিনি বলেন, “গত জুন মাসের টিসিবির চাল ফেরত গেছে ইউএনওর অবহেলায়। এতে করে দরিদ্র পরিবারগুলোর অনেক কষ্ট হয়েছে।”
টিসিবি ডিলারের প্রতিনিধি হাবিব বলেন, “টিসিবির পণ্যের সাথে সাথে ৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়। কিন্তু গত জুন মাসে ইউএনওর সময় মতো ছাড়পত্র না দেয়ায় উপজেলার ৪১ হাজার ১০২ জন টিসিবি গ্রাহকের ২ লাখ ৫ হাজার ৫১০ কেজি চাল ফেরত গেছে। এজন্য আমাদের অনেক হেনস্তার স্বীকার হতে হয়েছে।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম খোদাদাদ হোসেন বলেন, “বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যা শেষ হয়ে যায়। চাল ফেরত দেয়ার কথাছিল তবে তুলে গুদামেই রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বন্যা হলে বিতরণ করা হবে।
“আর বিশেষ কারণে আমার অনুপস্থিতিতে টিসিবি চাল উত্তোলনের সময় পার হয়ে যায়। গ্রাহকদের অন্যান্য পণ্য দেয়া হয়েছে।”