২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাবনায় তীব্র জ্বালানি সংকট, গাড়ি না পেয়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভোগান্তি

সড়কের পাশাপাশি কাজিরহাট-আরিচা ঘাটে ফেরি ও লঞ্চের জন্য যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

পাবনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Mar 2026, 06:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এর মধ্যে পাবনায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার, দীর্ঘ লাইন এবং গণপরিবহন স্বল্পতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরা মানুষজন।

সড়কের পাশাপাশি কাজিরহাট-আরিচা ঘাটে ফেরি ও লঞ্চ স্বল্পতায় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বাড়তি ভাড়া নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকা ও ফেরিঘাট ঘুরে ঢাকামুখী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

কর্মস্থলে ফেরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বেড়া উপজেলায় অভিযান চালানোর কথা বলেছেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান।

জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে তেল নেই জানিয়ে বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব পাম্পে তেল সামান্য অবশিষ্ট আছে, সেখানে শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। জ্বালানি তেলের রেশনিং (সীমিত সরবরাহ) পদ্ধতি চালু করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, এতে ভিড় আরও বাড়ছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে রাস্তায় দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ পথে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। ঢাকামুখী যাত্রী রুমন হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে রাস্তায় গাড়ি খুব কম। পরিবার-পরিজন রেখে একা ঢাকা ফিরতে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তা বলে শেষ করা যাবে না।

রাধানগর এলাকা থেকে সপরিবারে ঢাকায় ফিরছেন ফাহিমুল কবির। তিনি বলেন, “একা হলে ভেঙে ভেঙে চলে যেতাম, কিন্তু পরিবার নিয়ে এ অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করা চরম কষ্টের।”

কাজিরহাট-আরিচা নৌপথে যাত্রীদের অপেক্ষা

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নৌ-পথেও। কাজিরহাট-আরিচা নৌপথে স্পিডবোট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ফেরি ও লঞ্চ স্বল্পতায় ঘাটে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় করতে দেখা গেছে। অনেক যাত্রী বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও কর্মস্থলে ফেরার চেষ্টা করছেন। 

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, তেলের অভাবে গাড়ি বের করতে না পারায় তাদের দৈনন্দিন আয় বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করেছেন, ট্যাংক পূর্ণ করে তেল না পাওয়ায় তারা দীর্ঘ পথে যাত্রা করতে সাহস পাচ্ছেন না।

স্পিডবোট চালক আব্দুল খালেক বলেন, “ঘাটে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলেও তেলের অভাবে বোট ছাড়তে পারছি না। সারা বছর লোকসান দিলেও ঈদের সময় একটু বাড়তি আয়ের আশা থাকে, এবার সেটাও হলো না।”

স্থানীয়দের দাবি, উৎসবের এ সময়ে জ্বালানি সরবরাহে অব্যবস্থাপনার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ঢাকামুখী এ জনস্রোত আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

বেড়ায় যাত্রী সেজে ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান, জরিমানা

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কাশিনাথপুর মোড়ে সাধারণ যাত্রী সেজে অভিযান পরিচালনা করেছেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। কোনো প্রটোকল বা পুলিশ পাহারা ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেটের এ পদক্ষেপ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাধারণ যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করতে গেলে চালকরা তার কাছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দাবি করেন। এক চালক ৮০ টাকা এবং অন্যরা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া বেশি চান।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এর মধ্যে ৮০ টাকা ভাড়া চাওয়া চালককে ১০০০ টাকা এবং বাকি চারজনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

পাশাপাশি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবেন না মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন, ঈদ ফেরত যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ও ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে এ কৌশল নেওয়া হয়। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে যারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি হস্তক্ষেপে ভাড়া স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে।