১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নাটোর হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩

ওষুধ দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের ছয়তলার সিঁড়িঘরে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

নাটোর হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূকে ‘ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৩
নাটোর সদর হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নাটোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jun 2026, 06:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

নাটোর সদর হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসা নিতে আসা এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। 

ঘটনার দুদিন পর ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলা করলে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রোগী, স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নাটোরের আলাইপুর (সুইপার কলোনির) এলাকার বাসিন্দা অমিত (২৩), অনিল (২৪) এবং অঙ্গন (২৩)। তারা সদর হাসপাতালে ‘আউট সোর্সিংয়ে’ নিয়োগ পাওয়া পরিচ্ছন্নতা কর্মী।

নাটোর সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আল আমিন ইসলাম বলেন, “শহরের বাসিন্দা ওই নারী তার মেয়ের সর্দি-জ্বর নিয়ে শুক্রবার হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান। রোববার রাত ১০টার দিকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে ডেকে নেন অমিত।

“পরে হাসপাতালের লিফটে ছয়তলার সিঁড়িঘরে ওই নারীকে নিয়ে ধর্ষণ করেন অমিত। বিষয়টি বুঝতে পেরে অনিল ও অঙ্গন গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ওই নারীকে ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। রাজি না হলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। 

“পরে হাসপাতালের সিঁড়িঘরে ওই নারীকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় মাকে না দেখে শিশুটি কান্না করলে ওয়ার্ডে দায়িত্বরতরা আমাদের জানালে সিঁড়িঘরের গিয়ে ওই নারীসহ তাদের ধরে নিয়ে আসি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেন।” 

ওই নারীর স্বামীর অভিযোগ, “সিঁড়িঘর থেকে আটকের সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন ও সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

“বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালের সম্মান যাওয়ার কথা বিবেচনা করে তিন সুইপারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।”

এ বিষয়ে প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলায় তার উপস্থিতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি ঘটনার পরদিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি শুনেছেন।

“সুইপারদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের লিখিত একটা সমঝোতা হয়েছে। তারপরও আমি নাটোর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম”, বলেন তিনি।

হাসপাতালে এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাটোরের সিভিল সার্জন মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তারপরও লোকমুখে বিষয়টি শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি।”

গ্রেপ্তারদের বিকালে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।