২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাগলে ঘাস খেয়েছে: প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-মামলা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে।

ছাগলে ঘাস খেয়েছে: প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ-মামলা
মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর সদরের চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের একটি বাড়িতে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2025, 04:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় এক প্রবাসীকে মারধরের পর তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট ও পাঁচজনকে আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। 

তবে মামলার আসামিদের দাবি, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বরং তাদের স্বজনকে মারধর করা হয়েছে, সেজন্য তারা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। 

সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এসব ঘটনার সূত্রপাত ‘ছাগলে ঘাস খাওয়াকে’ কেন্দ্র করেই হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বুধবার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের প্রবাসী ইমরান হাওলাদারের মা করিমন নেছা বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। এর আগে একই ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের স্বপন ফকিরকে মারধরে সোমবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তার স্বজনরা। 

মামলার সূত্রে পুলিশ জানায়, ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দড়িকান্দি গ্রামের মতিউর রহমান হাওলাদারের প্রতিবেশী মজিদ মাদবরের মেয়ে মুন্নি বেগমের সঙ্গে রায়পুর গ্রামের স্বপন ফকিরের কথা কাটাকাটি হয়।

তার জের ধরে মতিউর রহমান হাওলাদারের ছেলে ইমরান হাওলাদারকে চন্দ্রপুর বাজারের ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মারধর করে দুলাল ফকির, স্বপন ফকির গংরা। 

এরপর মঙ্গলবার রাতে তারা ২০-২৫ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মতিউর রহমান হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। 

এ সময় তারা ঘরের দরজা, জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে মতিউরের স্ত্রী করিমন নেছা (৫০), ছেলে ইমরান হাওলাদার (৩০), মেয়ে অন্তরা বেগম (১৭), ইমরানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ইতি বেগম (২৪) ও প্রতিবেশী মুন্নি আক্তারকে (১৪) মারধর করে আহত করে। 

এরপর অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরে তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে মামলায় বলা হয়।

আহত অন্তরা বেগম বলেন, “সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে লুটপাটের সময় আমার অন্তঃসত্ত্বা ভাবিকেও ব্যাপক মারধর করেছে। আমরা এর বিচার চাই।” 

অন্তঃসত্ত্বা ইতি বেগম বলেন, “অন্যায়ভাবে রায়পুর গ্রামের সন্ত্রাসী আবু সিদ্দিক ফকির, দুলাল ফকির, স্বপন ফকির গংরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। তারা বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।” 

মতিউর রহমান হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাটের সময় পালং মডেল থানা পুলিশকে একাধিকবার কল দিলেও তারা আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি।”

চন্দ্রপুর ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিরাজ বলেন, “মতিউর রহমান হাওলাদারের লোকজন চন্দ্রপুর বাজারে স্বপন ফকির গংদের উপর হামলা করেছিল। তার রেশ ধরে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে শুনেছি।”

এ ব্যাপারে দুলাল ফকির বলেন, “সোমবার দুপুরে ইমরান হাওলাদারের লোকজন আমার ভাই স্বপন ফকিরকে চন্দ্রপুর বাজারে মারধর করেছে। আমরা রাতেই থানায় অভিযোগ করি, কিন্তু পুলিশ বলেছে তদন্ত করে মামলা নিবে।”  

তিনি বলেন, “আহত ভাইকে নিয়ে গতকাল থেকেই আমি হাসপাতালে রয়েছি। এর মধ্যে তারা নিজেরাই তাদের বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর করে আমাদের নাম দিচ্ছে।” 

এ ঘটনায় আবু সিদ্দিক ফকিরের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি। 

তবে হামলার খবর পেয়েও না যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালং মডেল থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “তারা দুই পক্ষ মারামারি করেছে। উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”