২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘লন কার্পেট’ ঘাস চাষে সফল চাঁদপুরের রাব্বি

রাব্বি জানান, বর্তমানে লন কার্পেট ঘাস প্রতি বর্গফুট বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়।

‘লন কার্পেট’ ঘাস চাষে সফল চাঁদপুরের রাব্বি

লন কার্পেট ঘাসের জমিতে গোলাম রাব্বি

আল ইমরান শোভন

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2022, 04:45 PM

Updated : 08 Sep 2022, 05:01 PM

অফিস বা বাড়ির আঙিনার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য দিন দিন কার্পেট ঘাসের চাহিদা আর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই ‘লন কার্পেট’ ঘাস চাষ করে সফল হয়েছেন চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার লোহারপুল এলাকার গোলাম রাব্বি।

বাহারাইনে ছিলেন প্রায় সাত বছর; দেশে ফেরার পর বিদেশ আর তাকে টানেনি। সেখানে কাজ করেছেন লন কার্পেট ঘাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে।সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লন কার্পেট ঘাস চাষ করে বাণিজ্যিক সফলতা পেয়েছেন তিনি।

রাব্বি চাঁদপুর থেকে অনলাইনে কার্পেট ঘাস সারাদেশে বাজারজাত করে দুই বছরেই সফলতার মুখ দেখেছেন। এখন প্রায় পাঁচ একর জমিতে তিনি চাষ করছেন লন কার্পেট ঘাস। তাতে কর্মসংস্থান হয়েছে স্থানীয়দেরও।

Image

লন কার্পেট ঘাসের জমিতে গোলাম রাব্বি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রাব্বি বলেন, “বাহারাইন থাকার সময় আমি লন কার্পেট ঘাসের কাজ চাষ শিখি। কারণ, সেখানে সৌন্দর্য বর্ধনে এই সবুজ কার্পেট ঘাস ব্যাপক ব্যবহার হতো। বাহারাইন থেকে দেশে ফিরে আসার পর বিদেশে যেতে আর ভাল লাগছিল না। পরে বাড়ির কাছেই দোকানঘর জাফরাবাদ এলাকায় ফসলহীন একটি উঁচু জমি খুঁজে বের করি।

“সেখানে প্রায় চল্লিশ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে ঢাকা থেকে এই ঘাসের বীজ সংগ্রহ করে প্রথমে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি। যখন দেখলাম এখানেও এটি করা যাবে। তখন আস্তে আস্তে জমিও বাড়াতে থাকি। বর্তমানে ওই এলাকায় চারটি স্থানে এই ঘাস চাষ চলছে। ”

তিনি বলেন, লন কার্পেট ঘাস হিসেবে বেশি পরিচিত এই ঘাসের মূল নাম ‘মেক্সিকান-বারমুডা গ্রাস’। আমাদের দেশে অনেকে কার্পেট ঘাস নামে ডাকেন। বাড়ি বা অফিসের আঙ্গিনায়, বাগানে, কবরস্থানে, পাহাড়ে সৌন্দর্য্য বর্ধনে ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে এই কার্পেট ঘাস।

Image

লন কার্পেট ঘাসের জমিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা

এ চারা ভারত থেকেও আনা হয়। চারা আনার পর এরপর তা ছোট ছোট টুকরো করে ‘মুড়া’ বানিয়ে পতিত জমিতে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর হালকা মাটি দিয়ে রোদে দেন। কয়েকদিন অল্প করে পানি দেন। প্রতি মাসে অন্তত একবার রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন।

কার্পেটের মতো রাখতে ১৫ দিন পর পর এই ঘাসের আগা কাঁচি দিয়ে ছাঁটা হয় বলে জানান রাব্বি।

পুরানবাজার লোহারপুল এলাকার মফিজ বলেন, “ঘাস আবাদ করে বিক্রি করা যায় আমরা জানতাম না। রাব্বির এই উদ্যোগ দেখে ভালো লাগছে। কারণ এই জমিগুলো অনাবাদী পড়েছিল। এখন পরিবেশটা খুব সুন্দর হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে ঘাস কেনার জন্য। এলাকার অনেক বেকার মানুষের কাজেরও ব্যবস্থা হয়েছে।”

রাব্বির চাষ করা লন কার্পেট ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, গাজীপুর, নরসিংদী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ অনেক জেলায় বিক্রি হয়েছে। এই ঘাস নিতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জেলা থেকে আগ্রহীরা যোগাযোগ করছেন।

Image

লন কার্পেট ঘাসের জমিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা

তবে লন কার্পেট ঘাস চাষ করার জন্য জমি পাওয়াটাই এখন বড় ধরনের সমস্যা উল্লেখ করে রব্বি বলেন, “সরকারের খাস ও পতিত জমিগুলো এই ধরনের ঘাস আবাদের জন্য লিজ দেওয়া হলে অনেকেই বিনিয়োগ করার জন্য এগিয়ে আসবেন। আমার কাছে যদি কোনো বেকার যুবক এ কাজ করার জন্য পরামর্শ চান, আমি সার্বিক সহযোগিতা করবো।”

রাব্বি জানান, ৯০ হাজার বর্গফুট জমিতে লন কার্পেট ঘাস চাষ করছেন তিনি। তার চার প্রকল্পের পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। জমি বাবদ ভাড়া দিতে হয় বছরে পাঁচ লাখ টাকা। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জনপ্রতি দৈনিক হাজিরা ৬০০ টাকা। বর্তমানে তিনি এই ঘাস প্রতি বর্গফুট বিক্রি করছেন ৮০ টাকায়।