১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ১৬ ফেরি, ২০ লঞ্চ চলবে

ঈদ উপলক্ষে ফেরি ও লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল ও ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Mar 2026, 05:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:06 PM

দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলের ক্ষেত্রে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে।

রোববার এক সভা শেষে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “ঈদ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৬টি ফেরি এবং সাতটি ঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশা করছি, ঈদ যাত্রায় কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করতে পারব।”

এদিন জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদ উপলক্ষে ফেরি ও লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল ও ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পদ্মা সেতু চালুর আগে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ছিল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ। দেশের ২১ জেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের এ পথে ফেরি পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তির শিকার হতেন চালক ও যাত্রীরা। 

ঈদের সময় সেই দুর্ভোগ বেড়ে যেত কয়েক গুণ। পদ্মা সেতু চালুর পর কমেছে ভোগান্তি, স্বস্তি ফিরেছে ঘাট দিয়ে চলাচলকারীদের। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী ও যানবাহনের তেমন চাপ নেই দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই পারাপার হচ্ছে। সাতটি ঘাটের মধ্যে তিনটি (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) ঘাট সচল রয়েছে। যানবাহনের চাপ না থাকায় দীর্ঘ সময় বসে থেকে ফেরিগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।

চালক ও যাত্রীরা জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর বেশিরভাগ যানবাহন সেতু ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার বেশকিছু যাত্রীবাহী পরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক এখনও এই নৌপথ ব্যবহার করেন। সাধারণ সময়ে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার যানবাহন পারাপার হলেও ঈদের আগে তা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। তবে ঈদযাত্রায় ফেরিঘাটে ভোগান্তি হবে না বলে আশা চালক ও যাত্রীদের।

মাগুরা থেকে আসা যাত্রী মুরাদ আহম্মেদ বলেন, “ঘাটের পরিস্থিতি ভালো আছে। আশা করছি, কোনো প্রকার ভোগান্তি হবে না ঈদে। কারণ আগের মত যানবাহনের চাপ নেই। বেশিরভাগ যানবাহন পদ্মা সেতু হয়ে পারাপার হয়ে থাকে।” 

প্রাইভেট কার চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর আগে যে ভোগান্তি হত সেটা সেতু চালুর পর হয়নি। সেতু চালুর পর ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ বাড়ি ফিরছে। এবারও আশা করছি, কোনো ভোগান্তি হবে না। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি, এখানে যেন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেয়।”

রুবেল আহম্মেদ বলেন, “গত কয়েক বছর হল ফেরিঘাটে ভোগান্তি নেই। তবে ঈদে ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী- এদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। প্রশাসন যদি এদিকে নজর দেয় তাহলে আর সমস‌্যা হবে না।

ঈদে ঘাট থেকে চলাচলকারী পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান রুবেল।

ঘাটে আসা ট্রাকের চালক আরিফ মোল্লা বলেন, “ঈদে ভোগান্তি হবে না। তবে নদীর পানি কমে যাওয়ায় ফেরিতে উঠার রাস্তাটা খারাপ হয়ে গেছে। লোড গাড়ি উঠতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া ভোগান্তির সম্ভাবনা নেই।”

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, “ঈদে লঞ্চে যেন অতিরিক্ত যাত্রী না উঠে সেদিকে তদারকি করা হবে। ফেরি ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কে যেন ধুলা না থাকে সেজন‌্য পানি সেচের ব‌্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘাটের পন্টুনে আলোর ব‌্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”

রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ঈদে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ফেরি ঘাট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ প্রশাসন ঘাট এলাকায় কাজ করবে। পোশাক, সাদা পোশাকসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব‌্যবস্থা থাকবে ঘাট এলাকায়। 

এ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চাঁদাবাজি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঘাট এলাকায় রাতে আলোর ব‌্যবস্থা থাকবে, নির্বাহী হাকিম, পুলিশ, র‌্যাব থাকবে। আশা করছি, ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব।”

রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস‌্য হারুন অর রশিদ বলেন, “ঈদে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার বিষয়টি আমরা দেখতে চাই না। লঞ্চ বা ফেরির ধারণ ক্ষমতার বাইরে যেন যাত্রী তোলা না হয়। 

“বাসে যাত্রীদের উপর যেন জুলুম না করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া যেন বেশি না নেওয়া হয়। যাত্রীরা যেন বলতে না পারে আগের সরকারের সময় ভাড়া কম ছিল এখন বেশি।”