Published : 29 Aug 2024, 09:43 PM
কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারে বিস্ফোরণের শব্দে ফের কাঁপছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত।
দেশটির রাখাইনের মংডু টাউনশিপের আশপাশের গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনতে পান টেকনাফ সীমান্তের বাসিন্দারা।
এ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, রাখাইন রাজ্যে মংডুতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান যুদ্ধে তীব্রতা বেড়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে মিয়ানমার আকাশে ছড়িয়ে পড়া আগুনের লেলিহান শিখা ও সকালে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়েছেন টেকনাফ সীমান্ত বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে সীমান্তের এপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
টেকনাফ সীমান্তের খারাংখালী, টেকনাফ, পৌরসভা, হ্নীলা, জাদিমুড়া, দমদমিয়া, নাইট্যংপাড়া, পৌরসভার জালিয়াপাড়া, নাজিরপাড়া, সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ, নাফ নদীর মোহনা ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে ভেসে আসছে বিস্ফোরণের শব্দ।
শাহ পরীর দ্বীপের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, “রাতে কিছুক্ষণ পরপর বিমান উড়ে আসে, যেন আমাদের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। এর পর বোমার শব্দ হয়। আমাদের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে।”
সাবরাং ইউপির চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে তেমন কোনো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়নি। তবে গতকাল রাতে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। এতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।”
হ্নীলা ওয়াব্রাং এলাকার সীমান্ত বাসিন্দা কামাল বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ১০-১৫ মিনিট পরপর বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে আমরা আতঙ্কিত হয়ে রাত জেগে ছিলাম। এতদিন বন্ধ থাকলেও আজকে রাতে নতুন করে বেশি বিস্ফোরণ হচ্ছে। রাত ১২টার পর থেকে বজ্রপাতের মত বিকট শব্দ আর কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।”
এ বিষয়ে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, “রাত ১২টার পর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের ভারি আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তবে এলাকার সীমান্তের কাছাকাছি বসবাসরত লোকজনকে আতঙ্কিত না হওয়ায় জন্য সতর্ক করা হয়েছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আবারও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সীমান্তের মানুষের খোঁজ-খবর রাখছি। যেকোনো প্রকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার রয়েছে।”