Published : 07 Aug 2026, 07:46 PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে ১২ অগাস্টের মধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. এমতাজ হোসেনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সাদাত হোসেন।
কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফিল হক।
আদেশে বলা হয়েছে, একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে একটি গণমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নামও প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক টেলিগ্রামে একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্রুপটির নাম ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এর সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান।
ওই গ্রুপে নিয়মিত অনলাইন বৈঠক, বার্তা আদান-প্রদান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয় বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তার দাবি, চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত, বয়কট বা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংগঠনটির কার্যক্রম অরাজনৈতিক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই এটি গঠন করা হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, আগের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের আদর্শিক অনুসারীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।