১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অবৈধভাবে বালু তোলার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিলোমিটার জট

অবরোধের কারণে আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 05:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।

‎শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধ করা হয়। 

এতে এই মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অবরোধের কারণে আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় মানুষজন।

‎‎স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী উপস্থিত হয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। 

কিন্তু তার পর থেকেই বালু উত্তোলনকারী পক্ষের লোকজন প্রতিবাদকারীদের হামলার হুমকি দিচ্ছে। হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।   

সড়ক অবরোধের কারণে তিন ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে থাকা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কসবা থেকে কাজী পরিবহনের বাসে পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বরোড পার হয়ে সোহাগপুর ব্রিজের আগে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে আছেন। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট করছে। 

সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের যাত্রী কাউছার বলেন, “আমার ঢাকাতে ৩টার সময় মিটিং। কিন্তু এখানেই ১টা বেজে গেছে। কতক্ষণ লাগবে জানি না।” 

তিনি বলেন, “কত রোগী, শিশু নিয়ে মানুষ কষ্ট করছে।”

আশুগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, “যারা মানববন্ধন ও অবরোধ করছেন তাদের মূল লোকেরা সামনে আসছেন না। সামনের সারির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করছি।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমরা যানচলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা তিনটার পর নড়ক থেকে লোকজন চলে গেলে যান চলাচল শুরু করে। তবে গাড়িগুলো চলছে ধীর গতিতে।