কথা ছিল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাবেন নিউ ইয়র্কে, নিজেই ফিরলেন লাশ হয়ে
২২ অগাস্ট নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের কর্মস্থলে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছরের ইউসুফ রাজু।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মো. ইউসুফ রাজুকে গ্রামের বাড়িতে শায়িত করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ শেষে উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। এ সময় পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মাগরিবের নামাজের পর কংশনগর জামে মসজিদের সামনে রাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
স্বজনরা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইউসুফ রাজু। তখন দেশে রেখে গিয়েছিলেন সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে। তার দুই শিশুকন্যা আছে।
কথা ছিল, কাগজপত্র তৈরি করে স্ত্রী-সন্তানদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। বরং নিজেই ফিরলেন লাশ হয়েছে।
২২ অগাস্ট নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের কর্মস্থলে বন্দুকধারীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ৪৪ বছরের ইউসুফ রাজু। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজুর মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমিশাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আজিজ। তিনি সরকারের কাছে রাজুর অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানান।
রাজুর স্বজন স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য রাজুর প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। সেই ঋণের বড় একটি অংশ এখনও পরিশোধ হয়নি। পরিবারের ভাঙা ঘরটিও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।”
