রাজশাহীতে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ৩০-৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছে: রিটার্নিং কর্মকর্তা
শাহ মখদুম কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতহাতির ঘটনা ছাড়া আর কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকাল থেকে নগরীর ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে গরমের মধ্যেও কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন ছিল। এর মধ্যে দুপুরে এক পশলা বৃষ্টিও হয়েছে। যদিও তাতে ভোটগ্রহণে কোনো বাধা হয়নি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বেলা আড়াইটায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবখানে সুচারু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। দুয়েকটি জায়গায় ইভিএমের কারিগরি ত্রুটি দেখা গেলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে তা ঠিক করে নেওয়া হয়েছে।
“বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গড় ভোট পড়ার হার ছিল ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। বিকাল ৪টায় ভোট শেষে অন্তত ৫০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করছি।”
দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, “একবেলা এক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল। এখন ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। আশা করি, ৫০ শতাংশের এর কম হবে না ভোটের হার। ভোট শেষ হলেই চূড়ান্ত ভোটের সঠিক হার বলা যাবে।”
এদিকে সকালে ভোট দিতে এসে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করেন তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তবে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার।
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে ইসির পর্যবেক্ষক টিমের প্রধান যুগ্ম সচিব মাহবুবার রহমান সরকার বলেন, “ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো, শান্তিপূর্ণ। কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
এদিকে নগরীর শাহ মখদুম কলেজ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সঞ্জয় দত্ত বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এর আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, “১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮-২৯ শতাংশ।
বেলা ১২টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বাবু এবং রুহুল আমিন টুনুর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বিবেকা নন্দন বিশ্বাস জানান।
তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রের সামনে রাস্তায় দুই কাউন্সিল সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে ভোটগ্রহণে কোনো প্রভাব পড়েনি। ভোটগ্রহণ চলমান আছে। তবে সংঘর্ষের সময় যে সব ভোটার বাইরে ছিলেন তারা পালিয়ে যান। পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা এসে ভোটের লাইনে দাঁড়ান।“
এ ছাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী প্রসাদ রায় লিটন বলেন, “জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর এজেন্টের মধ্যে হাতাহাতির ঘাটনা ঘটে। এর জের ধরে এই কেন্দ্রে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।”
