Published : 04 Aug 2026, 01:23 PM
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় ‘ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে’ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত চলে এই উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
ছাত্রদলের দাবি, ‘বহিরাগত’ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী বলেন, “আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার বর্ণণায় শিক্ষার্থীরা জানান, ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যানারটি সরানোর দাবি জানালে দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক পর্যায়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে ‘লাথি’ মারেন। পরে গাছের ডাল ভেঙে হামলা চালানো হয়। এ সময় শিবির নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম্প দিয়ে মারধরও করা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে টাঙানো একটি ব্যানার নিয়ে ‘ছাত্রদলের আপত্তি’কে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিকের অভিযোগ, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর ‘চাপ সৃষ্টি’ করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তাতে কর্নপাত না করে ‘হামলা চালায়’।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিনের ভাষ্য, “ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল।
“বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা ওই ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বলি। এরপরই তারা (ছাত্রশিশিব) চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়।”
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী
জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আহতদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করেছে এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করে নাই। যদি কেউ করে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
লিংক:
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে 'যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনী নিয়ে' ছাত্রদল