গাজীপুরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর ওপর হামলা-হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন আমেরিকান পাসপোর্টধারী নাগরিক। পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি গ্রামের বাড়ি ভোগড়ায় অবস্থান করছেন।
গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকায় এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর ওপর স্থানীয় বিএনপির নেতার ছেলেরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে রোববার ভুক্তভোগী বাসন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ।
সাধারণ ডায়েরিতে বাসন থানা বিএনপির জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আজহারুল ইসলাম আজাদ, ফাইজুল ইসলাম ও রোকনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ওই প্রবাসী।
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন ভোগড়া মধ্যপাড়া এলাকার মৃত সামশুদ্দিনের ছেলে। তিনি আমেরিকান পাসপোর্টধারী নাগরিক। পারিবারিক প্রয়োজনে তিনি গ্রামের বাড়ি ভোগড়ায় অবস্থান করছেন।
আকরাম হোসেন বলেন, ভোগড়া এলাকায় তার আবাসন ভবন এবং কিছু দোকান রয়েছে। দোকানগুলি ভাড়া দেওয়া। এসব স্থাপনার জন্য কয়েক বছর আগে তারা কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রান্সফরমার কিনে তার মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছেন।
তবে বুধবার তার দোকানের পাশে নবনির্মিত টিনশেড ভাড়া বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে যান আজহারুল ইসলাম ওরফে আজাদ।
তারা আকরামদের ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে আজাদ, ফাইজুল ইসলাম ও রোকন তার ওপর চড়াও হয়।
আকরাম আরও বলেন, “তারা দফায় দফায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমার উপর হামলা করে। পরে পাশে থাকা আমার দোকানগুলো একে একে সাটার টেনে বন্ধ করে দিতে থাকে এবং বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা দিলে খুন- জখমের হুমকি দিতে থাকে।”
এক উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে আকরামতে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর ধারণ করা ভিডিওতে এসব ঘটনার প্রমাণ আছে বলে অভিযোগে জানিয়েছেন এ প্রবাসী।
এদিকে স্থানীয়রাও আজহারুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলেছেন। বাবার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে। এছাড়া তাদের কাজে বাধাদানকারীকে ‘আওয়ামী লীগের লোকজন হিসেবে’ দেখিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও আছে।
তবে এসব বিষয় নিয়ে আজহারুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমেরিকান নাগরিকের উপর হামলা করার কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু হামলার ঘটনার ভিডিওতে তার ছবি পাওয়া গেছে জানালে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।
বাসন থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
