১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালীতে সমাবেশ থেকে ‘হেযবুত তওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি

বক্তারা ‘হেযবুত তওহীদের’ বইপত্র ও পত্রপত্রিকা নিষিদ্ধ এবং ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের দাবি জানান।

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 06:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

নোয়াখালীতে মহাসমাবেশ থেকে ‘হেযবুত তওহীদ’ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। 

শনিবার বিকালে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে ‘জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’ এ মহাসমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, “ইমান বিধ্বংসী জঙ্গি সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’ সেবার আড়ালে সুকৌশলে হাজার হাজার মুসলমানকে ইমানহারা করছে। যার কারণে এদেশের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম ও তওহীদি জনতার চেতনা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। দেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সর্বস্তরের তওহীদি জনতা বিক্ষুব্ধ হচ্ছে এবং তাদের ভিনদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কারণে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।”

তিনি ‘হেযবুত তওহীদ’ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান।

মহাসমাবেশে দুই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জমাইয়াতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন। 

এতে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম।

সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালী সুপার মার্কেটের সভাপতি মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি সংহতি প্রকাশ করেন। 

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, অনতিবিলম্বে ‘হেযবুত তওহীদ’কে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের বইপত্র ও পত্রপত্রিকা নিষিদ্ধ এবং ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে হবে। সারাদেশে ‘হেযবুত তওহীদ’ কর্তৃক বিভিন্ন নিরীহ মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।

মহাসমাবেশ থেকে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তওহীদি জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত  ‘হেযবুত তওহীদের’ স্বরূপ উন্মোচনে পর্যায়ক্রমে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।