Published : 02 Apr 2026, 08:43 PM
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্বজন ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শহরের মজমপুর গেইটে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় শিক্ষক রুনার স্বামী মামলার বাদী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইমতিয়াজের অভিযোগ, “আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। এ ছাড়া আসামিরা নানাভাবে আমার পরিবারের লোকজনকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। বিষয়টি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
রুনার মেয়ে তাইবার দাবি, তার মাকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে। সে বলে, “আমরা এখন ছোট ছোট তিন ভাই-বোন কার কাছে থাকব?”
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর পাশাপাশি নিহতের আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকাবাসী অংশ নেয়।
এর আগে ৪ মার্চ বিকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা নিজ কার্যালয়ে খুন হন। ঘটনার সময় ওই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। আহত অবস্থায় দুজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু রহমানের চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি তিন আসামি সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো পলাতক আছেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, ইবি শিক্ষক হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো শাখা একযোগে কাজ করছে। আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আদালতের আদেশ পাঠানো হয়েছে; খুব শীঘ্রই আসামিরা গ্রেপ্তার হবে বলে আশা পুলিশ সুপারের।