Published : 25 Mar 2026, 11:21 PM
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ যাত্রীবাহী বাসটি ছাড়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। এতে চালক ও সহকারীসহ অন্তত ৫০ যাত্রী ছিলেন বলে দাবি কাউন্টার মাস্টারের।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনাল থেকে শিশুসহ ছয়জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ।
এদিন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
তন্ময় আহমেদ বলেন, প্রথমে ছয়জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে সাতজন, মাছপাড়ার চারজন, পাংশায় ১৫ জন, চালক ও সহকারীসহ অন্তত ৫০ জন ছিলেন।
তার দাবি, ৪০ আসনে বাসটিতে মোট ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে পড়ে গেছে।
এর মধ্যে কুমারখালী বাস টার্মিনাল থেকে ওঠা আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭), ছেলে আবুল কাসেম সাফি (১৭) এবং মেয়ে আয়েশা বিনতে গিয়াস (১২)। এর মধ্যে আয়েশা নিখোঁজ রয়েছে। গিয়াস উদ্দিন ঢাকার তাকাওয়া ফুডের মালিক। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সমসপুর এলাকায়।
অপর যাত্রীরা হলেন- মো. নুরুজ্জামান সাহেদ (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০), মেয়ে নাওয়ার আক্তার (৪) ও ৭ মাস বয়সী আরশান। তাদের মধ্যে আয়েশা আক্তার ও সাত মাস বয়সী মেয়ে আরশান নিখোঁজ রয়েছেন।
মো. নুরুজ্জামান সাহেদ ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার খোন্দকবাড়িয়াতে।
কুষ্টিয়ার খোকসা কাউন্টার থেকে ওঠা উপজেলা ধুসুন্ডু গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৩০), তার স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), তার ৩ বছরের ছেলে ইসরাফিল। এর মধ্যে দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইসরাফিল নিখোঁজ রয়েছে।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, কুমারখালী থেকে ছয় যাত্রী নিয়ে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- বাসটি ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় পন্টুনে ছিল। ফেরিটি পন্টুনে যুক্ত ছিল। ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন ছিল। চলন্ত বাসটি মুহূর্তের মধ্যে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি পড়ার মুহূর্তে পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন সেদিকে দৌড়ে যান। বাসটি ডুবে যাওয়ার পর সেখান থেকে কয়েকজন ভেসে ওঠেন। তখন পন্টুন ও ফেরিতে থাকা লোকজন তাদের দিকে রশি ও লাইফবয় ফেলেন। তারা সেটি দিয়ে ধরে ওঠে আসেন।
দৌলতদিয়ায় বাস দুর্ঘটনা: পদ্মা থেকে ২ নারীর লাশ উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী নিয়ে বাস পদ্মায়, হতাহতের শঙ্কা
দৌলতদিয়ায় বাসটি পদ্মার ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে: ফায়ার সার্ভিস