Published : 30 Jun 2025, 09:05 PM
সোমবার উপজেলার নরঙ্গাবাদ হরিণমারি সাঁওতাল পল্লীতে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি গনেশ মুরমু সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, আদিবাসী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বাবু রবিদাস, ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নাসেরউদ্দিন মোল্লা, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, আদিবাসী নেতা মিল্টন হেমব্রম, রমিল হেমব্রম, সিপিবি নেতা যোগেশ্বর বর্মন, তাজুল ইসলাম প্রধান।
বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন বলেন, ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও জমিদার-মহাজনদের শোষণের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়।
সিধু-কানু, চাঁদ-ভৈরবীর নেতৃত্বে সংগঠিত এই বিদ্রোহ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে শোষিত মানুষের এক সাহসী প্রতিবাদ। এই বিদ্রোহ একদিকে যেমন ব্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনি স্থানীয় জমিদার ও মহাজনদের জুলুম থেকেও মুক্তির পথ দেখিয়েছিল।
বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সাঁওতালরা আজও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত।”
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ-লুটতরাজ এবং তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও সম্পন্ন করতে পারেনি সরকার।
তিনি সাঁওতালদের তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড না করার দাবি জানান।
এর আগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ওই এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
অপরদিকে উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের সাতানা আলোর ঘর শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অবলম্বন’ সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন করেছে।