১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাকসু ও ছাত্রশিবিরের ‘মব ভায়োলেন্সের’ বিচার চায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট

স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 07:54 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘মব ভায়োলেন্স’, হামলার অভিযোগ এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিমকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষার্থীদের ওপর ‘মব ভায়োলেন্সের’ ঘটনায় জড়িত রাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; ‘রাকসু ভবনে হামলা’ সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত ও বিচার করা; গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মশাল মিছিলে হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; জুলাই ৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা, সাতটি হলে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগসহ জুলাই-পরবর্তী অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার এবং প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থী লাঞ্ছনার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর এবং পরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। রাকসু ও শিবির ওই তিন শিক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় ‘মব ভায়োলেন্স’ চালিয়েছেন। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বিশেষ করে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রক্টর দপ্তরে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) কর্তৃক শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে ছাত্রজোটের নেতারা বলেন, তদন্ত ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডির হলেও কর্তব্যরতদের উপস্থিতিতে ছাত্রনেতাদের এ ধরনের আচরণ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিনের ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’র ফল। গত বছরের ২৭ মে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মশাল মিছিলে হামলা, নারী শিক্ষার্থী লাঞ্ছনা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যানার ছেঁড়ার মত ঘটনার বিচার না হওয়া এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সে সময় প্রশাসনের কাছে ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার হয়নি বলে দাবি করেন ছাত্রজোটের নেতারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, সিট বাণিজ্য ও সহিংস রাজনীতির অতীত ইতিহাস আছে এমনটা বর্ণনা করে জোট নেতারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না; কিন্তু প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ক্যাম্পাসকে অগণতান্ত্রিক পরিবেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তারা মনে করে। 

এই পরিস্থিতি ঠেকাতে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিতের দাবিও জানান তারা।