১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বান্দরবানে বালুমহালের ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

বক্তারা বলেন, শিলক খালে বালু উত্তোলন করা হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। মাটি সরে গিয়ে রাবার ড্যাম ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বান্দরবানে বালুমহালের ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন
বান্দরবানে বালুমহাল বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন।

বিডিনিউজ২৪

বান্দরবান প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 11:43 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নে বালুমহালের ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

সোমবার বিকালে বান্দরবান শহরের প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, রাজবিলা ইউনিয়নে শীলক খাল এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলাধার। এই খালের উপর নির্ভর করে বহু কৃষক সেচ সুবিধা পান। কৃষিকাজ পরিচালনা করেন এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য টিকে আছে। সম্প্রতি এই শীলক খাল এলাকায় বালুমহাল ঘোষণায় স্থানীয়দের উদ্বেগ বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উখ্যাই মারমা বলেন, রাজবিলা ইউনিয়নে ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। সেখানে বছরে দুই মৌসুম চাষবাদ করা যায়। বোরো মৌসুমে চাষাবাদ চলে রাজবিলা রাবার ড্যামের পানি দিয়ে। অথচ সেগুলো বিবেচনা না করে এই রাবার ড্যামের পাশে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এতে কৃষি কাজ ব্যাহত হবে এবং খাল থেকে মৎস্য আহরণেও সমস্যা তৈরি করবে। 

“এমনিতে খালের পানির গভীরতা কমে গেছে। পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। এরই মধ্যে এলাকাবাসী সেচের সংকটে ভুগছে। রাবার ড্যামের কারণে বোরো মৌসুম চাষ করতে পারে। এই অবস্থার মধ্যে বালু উত্তোলন করা হলে এলাকার পরিস্থিতি আরও বিপর্যয় ঘটবে। প্রশাসনের দেওয়া এই বালুমহাল পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে।”

রাজবিলা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি উসিংহাইনু তালুকদার বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার এলাকার অংশে বালু উত্তোলনের কারণে মাটি সরে গিয়ে রাজবিলা রাবার ড্যাম এমনিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমাদের এলাকায় শিলক খালে বালু উত্তোলন করা হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে। মাটি সরে গিয়ে রাবার ড্যাম ধসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।” 

“রোববার উপজেলা প্রশাসন থেকে বালুমহাল চিহ্নিত করে মাপতে আসছিল। সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা উন্নয়নবিরোধী নই। তবে যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রম আইনসম্মত, পরিবেশসম্মত ও জনস্বার্থ রক্ষাকারী হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত নিয়ে শিলক খাল এলাকায় বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার আছে।”

মানববন্ধন শেষে বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরির কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

চলতি বছর ২১ জুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজবিলা ইউনিয়নে তিনটি বালুমহাল ইজারা দেওয়ার দরপত্র আহ্বান করে জেলা প্রশাসন। পরে বালুমহালটি বাজারমূল্য এবং সম্ভাব্য বালুর পরিমাণ বিবেচনায় প্রস্তাবিত ইজারামূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় ৩০ জুন আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়। 

দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি নির্ধারিত ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৪০ টাকা। বালুমহালগুলো হল রাজবিলা ইউনিয়নে ঝাংকা খাল ‘ক’-এর ২ একর, ঝাংকা খাল ‘খ’-এর ২ একর এবং শিলক খালের ৩ একর। 

রোববার ইজারাদাদের সরকার নির্ধারিত বালুমহালটি বুঝিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন। 

বালুমহাল ইজারা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সামিউল ফেরদৌসকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, “রাজবিলা বালুমহালের জন্য যিনি সর্বোচ্চ দরদাতা ছিলেন রোববার তাকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা যখন গেছি, সেখানে দুইটা বালুর ট্রাক পাওয়া গেছে। তাদের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে আর বালু নিলামে তোলা হয়েছে। যারা মানববন্ধন করেছেন তারা নিজেদের স্বার্থে করছেন অথবা অন্য কেউ করাচ্ছেন।”

ইউএনও বলেন, “বালুমহাল ঘোষণার একটা নিয়ম থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রকৌশল বিভাগ এবং আরও কয়েকটি বিভাগ সেটা দেখে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে। সেটা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর অনুমোদন দিয়েছে। তারপর আমরা বালুমহাল ঘোষণা করে ইজারা দিয়েছি।  ইজারাদার সরকার নির্ধারিত জায়গার বাইরে বালু তুলতে পারবেন না। এটা পর্যবেক্ষণ করব।”