Published : 20 Mar 2026, 08:45 PM
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় চার বছরের শিশু মরিয়ম আক্তারকে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা নেশার টাকার জন্য গলার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে শিশুকে হত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার দুই বন্ধু শুক্রবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় বলে জানান ঈশ্বরগঞ্জ আঠারবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম।
নিহত মরিয়ম আক্তার ওই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে রাতেই ১৬ ও ১৫ বছরের দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিন দুপুরে দুইজনকে আদালতে তোলা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা বলে স্বীকারোক্তি দেয়।
জবানবন্দিতে ঘটনার আগে দুই বন্ধু কথোপকথনে বলে, ‘তোরে তো আমি সব সময় খাওয়াই-অহন ঈদ উপলক্ষে তুই খাওয়াইবে, না অইলে খবর আছে। অপর বন্ধুর উত্তর- ‘আমার কাছে তো টাকা নাই-কিবায় ব্যবস্থা করবাম’, তবে একটা পথ আছে, তোর চাচাতো বইনের (বোন) গলার মধ্যে একটা রূপার চেইন আছে হেইডা বেইচ্যা টেহা যুগাড় অইব’।
পুলিশ জানায়, দুই বন্ধুর এসব শলাপরামর্শে শিশু মরিয়ম আক্তারকে তুলে নিয়ে যায়। পরে চেইন ছিনিয়ে নিলে চিৎকার করায় তাকে গলা টিপে হত্যার পর বাড়ির পাশে চুলার ভিতর লাশ গুম করার চেষ্টা করে তারা।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টা থেকে মরিয়মকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন দিনভর আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। এ অবস্থায় ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে তার লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই দুই কিশোর ‘নেশাগ্রস্ত’। দুই পরিবারের লোকজন তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। নেশার টাকা জোগাতে সমাজে এহেন কোনো কাজ নেই তারা করে না। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশও হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নেশার টাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দুই বন্ধু। শেষমেষ শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করে তারা।
পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুইজনকে গ্রেপ্তারের পর একজন বলে, আঠারবাড়ি বাজারে ‘আইহিন জুয়েলার্সে’ এক হাজার ২০০ টাকায় রূপার চেইন বিক্রি করে তারা। পরে সেখান থেকে চেইন উদ্ধার করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানান তিনি।