Published : 15 Mar 2026, 07:46 PM
জ্বালানি তেল সংকটে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার সকাল থেকে চালকরা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ ও স্পিডবোট। লঞ্চে যাতায়াতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অধিকাংশ যাত্রী স্পিডবোটে বেশি চলাচল করে থাকেন।
রাঙামাটি ফিশারি ঘাটের স্পিডবোটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, “আমরা গতকাল (শনিবার) থেকে তেল পাচ্ছি না। তাই আজকে রোববার সকাল থেকে কোনো বোট চলতে পারতেছে না। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
“জেলা প্রশাসন থেকে বনরূপা ফিলিং স্টেশনে বলে দেওয়া হয়েছে, স্পিডবোটের জন্য তেল বরাদ্দ রাখতে। আমাদেরকে ফিলিং স্টেশন থেকে বলা হয়েছে, সোমবার তেল আসা সাপেক্ষে ২০০ লিটার তেল দেওয়া হবে। তেল পেলে আমাদের মোটামুটি পাঁচটি বোট চলাচল করতে পারবে।”
অমর বিকাশ নামে এক যাত্রী বলেন, “জরুরি কাজে বাঘাইছড়ি যাওয়ার জন্য সকালে বের হয়েছিলাম। সকালে মারিশ্যা পিকআপে টিকেট পাইনি। তাই দুপুরে স্পিডবোটে করে যাওয়ার জন্য ফিশারি ঘাটে গিয়ে শুনি, বোট নাকি বন্ধ। তাই আজকে আর যেতে পারলাম না।”
কামরুল হাসান নামে আরেকজন বলেন, “লঞ্চের চেয়ে স্পিডবোটে কম সময়ে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু আজকে সকাল থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বোট চালকরা বলতেছে, তেল না থাকায় বোট চলাচল বন্ধ করেছে। আমার লংগদু যাওয়ার কথা। দুপুর আড়াইটার পরে কোনো লঞ্চ না থাকায় বাধ্য হয়ে শহরের আত্মীয়ের বাসায় থাকতে হবে।”
এদিকে স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও সচল রয়েছে লঞ্চ চলাচল।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, “লঞ্চ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পাম্পগুলো থেকে ঠিকমত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের কয়েকদিন চালানোর মত তেল সংরক্ষণ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “সংকট নিরসনে আমরা কাজ করছি। তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট যেন চলাচল করতে পারে সেজন্য ফিলিং স্টেশনে তেল বরাদ্দ রাখার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।”