১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরপুরে আগুন: এক মাস আগে গার্মেন্টে চাকরি নেন বরগুনার সাব্বির

পোশাক কারখানায় আগুনে নিহতের তিন দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সাব্বিরের লাশ শনাক্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মিরপুরে আগুন: এক মাস আগে গার্মেন্টে চাকরি নেন বরগুনার সাব্বির
বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর বান্দরগাছিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সাব্বিরের লাশ দাফন করা হয়।

বরগুনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Oct 2025, 05:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

দরিদ্র পরিবারের সন্তান খালিদ হাসান সাব্বির। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে এক মাস আগে ঢাকার মিরপুরের পোশাক কারখানায় চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে সেই কারখানায় আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে মারা যান সাব্বির।

সোমবার সকালে নিজ বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর বান্দরগাছিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সাব্বিরকে দাফন করা হয়।

এর আগে ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে রাসায়নিক গুদাম ও পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১৬ জন প্রাণ হারান; যাদের মধ্যে সাব্বিরও ছিলেন। তবে লাশ আগুনে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রথম দিকে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

ঘটনার তিন দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ২৯ বছর বয়সি সাব্বিরের লাশ শনাক্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাব্বির। পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সাব্বিরের বাবা মনিরুল ইসলাম জোমাদ্দার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “একমাত্র ছেলে আমাকে আর বাবা বলে ডাকবে না। ছেলেটা মাসখানেক আগে ঢাকায় একটি গার্মেন্টে চাকরি করতে গেল। মঙ্গলবার রাতে আগুন লাগার খবর শোনার পর থেকে আমার চোখে আর ঘুম নেই। 

“হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখি মৃতদেহগুলো এতটাই বিকৃত যে, নিজের সন্তানকেও চেনার উপায় নেই। শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ভরসায় ছিলাম। এমন মৃত্যু যেন আর কারও সন্তানের যেন না হয়।”

সাব্বিরের স্ত্রী বলেন, “ঘটনার দিন আমার সঙ্গে তেমন কোনো কথা না হলেও মেসেজে দুই একবার ‘হায় হ্যালো’ হয়েছে। দুপুরের দিকে আমাদের পরিচিত এক লোক ফোন করে জানান, ভাবি সাব্বিরের পাশের ভবনে আগুন লেগেছে। 

“তারপর সাব্বিরকে আমি বার বার ফোন দেই কিন্তু ফোন আর ধরে নাই। পরক্ষণে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেই।”

সাব্বিরের ফুপা বলেন, “সাব্বির যে কারখানায় চাকরি করছিল, আগুন লাগার মুহূর্তে সে তিন তলায় ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে সাব্বির নিচে নামলেও আর বের হতে পারেনি। কারণ মেইন দরজায় তালা লাগানো ছিল।”

মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়ি এলাকার কসমিক ফার্মা নামের ওই গার্মেন্টে কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে বরগুনা জেলায় সাব্বিরসহ তিনজন মারা যান। 

অন্য দুজন হলেন- বামনা উপজেলার প্রয়াত ওমর ফারুকের মেয়ে মাহিরা আক্তার (১৪) এবং আমতলী উপজেলার তারিকাটা গ্রামের প্রয়াত মজিবুর রহমানের ছেলে আল-মামুন (৩৮)।

মিরপুরে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামের আগুনে মৃত্যু বেড়ে ১৬