১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাইবান্ধায় ৩ সাঁওতাল হত্যার বিচার ৯ বছরেও হয়নি

হত্যাকাণ্ডের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জে পৃথক কর্মসূচি থেকে বিচার দাবি করেন বক্তারা।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Nov 2025, 09:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:37 PM

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার নয় বছরেও হয়নি। বাস্তবায়ন হয়নি সরকারের দেওয়া আশ্বাস। 

হত্যাকাণ্ডের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা ও গোবিন্দগঞ্জে পৃথক কর্মসূচি থেকে বিচার দাবি করেন বক্তারা। তারা বলেন, সাঁওতালরা সেখানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্য রয়েছেন। 

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ সাঁওতালদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে যায়। তখন পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ৩০ জন সাঁওতাল আহত হন। এ সময় সাঁওতালদের ঘরবাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে মঙ্গল মারডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম মারা যান। 

এ ঘটনায় থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বুলবুল আকন্দসহ ৩৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

তিন সাঁওতাল হত্যার বার্ষিকী উপলক্ষে সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জয়পুর গ্রামে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। 

পরে মাদারপুর ও জয়পুর গ্রাম থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেবগঞ্জ নিমতলা মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। 

এ ছাড়া এদিন হত্যার বিচার চেয়ে গাইবান্ধা শহরেও একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

দুপুরে নিমতলা মোড়ে ‘সাঁওতাল হত্যা দিবসে’ সমাবেশের আয়োজন করে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি ও সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংহতি কমিটি ঢাকা।

ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি গনেশ মুরমুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রভাত টুডু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আহ্বায়ক আতোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন মোল্লা, আদিবাসী বাঙ্গালী সংহতি পরিষদের সদর উপজেলার আহবায়ক গোলাম রাব্বী মুসা, আদিবাসী নেতা রাফায়েল হাসদা, কামিল হেমব্রম, বিমল বেসরা, ময়রা হেমব্রন, রুমিলা কিসকু, ইলিকা টুডু। 

এ সময় সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, “নয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। আহত সাঁওতালরা উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কেউ পঙ্গু, কেউ শরীরে গুলির স্প্লিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন।” 

সাঁওতাল হত্যার বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার, বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের ক্ষতিপূরণ এবং সাঁওতালদের রক্তভেজা তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন। 

এদিকে, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির একাংশের সভাপতি ফিলিমন বাসকে। এতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খায়রুল কবির, এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আদিবাসী নেত্রী বিচিত্রা তিরকিত, গাইবান্ধা আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, সমাজকর্মী মোর্শেদ হাসান দীপন। 

সিরাজুল ইসলাম বাবু হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, পিবিআই ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু মূল আসামিসহ ১১ জনকে আসামির শ্রেণিভুক্ত না করায় বাদীপক্ষ নারাজি দেয়। আদালত ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেয়। 

২০২০ সালের ২ নভেম্বর সিআইডিও আদালতে পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রটি হুবহু জমা দেয়। বাদী এবারও নারাজি দেন। আদালত ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অধিকতর তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপারকে প্রদান করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়নি।